September 25, 2026
রাজ্য

‘গুন্ডাদমন’ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যে ফেরালেন রাষ্ট্রপতি

মাদক আইনের সঙ্গে সংঘাত

সংবাদ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ‘গুন্ডাদমন’ বিলে সম্মতি দিলেন না রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তির কথা জানিয়ে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের আপত্তির মূল জায়গা মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে প্রস্তাবিত আইনের আওতায় এনে নিবর্তনমূলক আটক করার বিধান। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই বিধান ১৯৮৫ সালের মাদকদ্রব্য ও মানসিক প্রভাবকারী পদার্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন এবং ১৯৮৮ সালের অবৈধ মাদক পাচার প্রতিরোধে নিবর্তনমূলক আটক সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে।

গত ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’ পাশ হয়েছিল। প্রস্তাবিত আইনে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের পাঠানো নোটে বিশেষ করে বিলের একটি ধারায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।

কেন্দ্রের যুক্তি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই পৃথক কেন্দ্রীয় আইনে নিবর্তনমূলক আটকের নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। ফলে রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে একই ধরনের অপরাধের জন্য আলাদা একটি আটক ব্যবস্থা তৈরি হলে দুই আইনের মধ্যে আইনি দ্বৈততা বা সংঘাত তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রীয় নোটে এই বিষয়টিকে সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

এই কারণে সংশ্লিষ্ট মাদক সংক্রান্ত বিধান বাদ দিয়ে বিলটি সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়ায় বিলটি এখনও আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর রাজ্য সরকার চাইলে বিধানসভায় বিলটি ফের পেশ করার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

এর আগে বিলটির কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিধানসভায় বিল পাশ হওয়ার পর সেটি কার্যকর হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হলেও কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত বিলটি আইনে পরিণত হয়নি। গত ৬ অগস্ট তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজের সময়ও আদালতের সামনে এই বিষয়টি উঠে আসে।

বিলটিতে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ আধিকারিকের আদেশে নির্দিষ্ট এলাকা, শহর বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কারের বিধানও রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে একাধিক ক্ষমতার প্রস্তাব ছিল।

রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পর বিলটির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি নিয়ে রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হবে কি না, নাকি অন্য কোনও আইনি পথ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment