31 C
Kolkata
September 19, 2026
খেলা

নাগোয়ায় ফের সমস্যায় ভারতীয় শুটাররা

নাগোয়া— এশিয়ান গেমস শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সামনে আসছে। কখনও পরিবহণের সমস্যা, কখনও হোটেলে ঘর না পাওয়া, আবার কখনও অনুশীলনের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন। এ বার নতুন করে সমস্যায় পড়ল ভারতীয় শুটিং দল। আগে থেকেই বুক করা ঘরও শেষ পর্যন্ত পাননি শুটার রাহি সরনোবত। তাঁর জন্য বরাদ্দ ঘরটি ডোপ কন্ট্রোলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই এই বিশৃঙ্খলা আর কত দিন চলবে?

ভারতীয় শুটিং দলের ৩৫ জন সদস্য ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে জাপানে পৌঁছন। আয়োজকদের দেওয়া বুকিং তালিকা অনুযায়ী, ভারতীয় দলের জন্য মোট ৪০টি ঘর আগে থেকেই বুক করা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট হোটেল গ্র্যান্ড তিয়ারায় পৌঁছে শুটার এবং কোচেরা জানতে পারেন, সেখানে তাঁদের জন্য রয়েছে মাত্র সাতটি ঘর। বাকি ৩৩টি ঘর অন্য একটি হোটেল, টয়োকো ইন-এ দেওয়া হয়েছে।

ঘর নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা এবং টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত দলের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সমস্যা সেখানেই শেষ হয়নি। পরে নাগোয়ায় পৌঁছন ভারতীয় শুটিং দলের আরও পাঁচ সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাহি সরনোবতও।

শুক্রবার রাতে রাহি হোটেলে পৌঁছনোর পর তাঁর ঘরের চাবি নিতে এক কোচ গ্র্যান্ড তিয়ারা হোটেলে যান। সেখানেই নতুন করে সমস্যার কথা জানা যায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাহির জন্য আগে থেকে বরাদ্দ করা ঘরটি আর খালি নেই। সেই ঘর এখন ডোপ কন্ট্রোলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।


ঘটনাটি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে কারণ ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার বুকিং তালিকায় ওই ঘরটিই রাহির নামে বরাদ্দ ছিল। এমনকি আয়োজকদের রেকর্ডেও সেই বুকিংয়ের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, আগে থেকে বুকিং থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে সেই ঘর অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর পর রাহি নিজে হোটেলে পৌঁছলে তাঁকে অন্য একটি হোটেল, টয়োকো ইন-এ নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ সেই হোটেলটি তাঁর জন্য নির্ধারিত ছিল না। সেখানেই তাঁকে ঘরের চাবি দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পরিস্থিতি দাঁড়ায় বেশ অদ্ভুত—যে হোটেলে রাহির থাকার কথা ছিল, সেখানে তাঁর জন্য বরাদ্দ ঘর নেই। আবার যে হোটেলে থাকার কথা নয়, সেখানেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভারতীয় শুটিং দলের সমস্যা অবশ্য নাগোয়ায় পৌঁছনোর পর থেকেই শুরু হয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় নটা নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছন দলের সদস্যরা। রাত ১১টার মধ্যে কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। এর পর অ্যাক্রেডিটেশন ভ্যালিডেশন সেন্টারে প্রয়োজনীয় কাজও মাত্র ১৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়।

কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টে পর্যন্ত অ্যাক্রেডিটেশন সেন্টারেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয় শুটার এবং কোচদের। শেষ পর্যন্ত ভোর তিনটে নাগাদ গাড়ি আসে। হোটেলে পৌঁছতে তখন প্রায় সাড়ে তিনটে বেজে গিয়েছে।

হোটেলে পৌঁছে দলের সদস্যরা দেখেন, ৩৫ জনের জন্য নির্ধারিত থাকার জায়গায় রয়েছে মাত্র সাতটি ঘর। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয় আরও বিভ্রান্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। পরে অন্য হোটেলে ঘর দেওয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হয়।


কিন্তু রাহি সরনোবতের ঘর নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ফের আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে যেখানে ক্রীড়াবিদদের মূল লক্ষ্য হওয়ার কথা অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি, সেখানে তাঁদের একের পর এক মাঠের বাইরের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই পরিবহণ এবং থাকার ব্যবস্থা নিয়ে এই ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতীয় দলের অন্দরে। এখন দেখার, মূল প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে বাকি ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলি কতটা দ্রুত মেটানো যায়।

Related posts

Leave a Comment