September 16, 2026
খেলা

সমালোচনার জবাব ২২ বলে ৫৭, ‘ওয়াই-ফাই’ বন্ধ রাখার গল্প সঞ্জুর

নয়াদিল্লি—দিল্লিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে সমালোচকদের জবাব দিলেন সঞ্জু স্যামসন। তবে ম্যাচের পর ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার স্বীকার করে নিলেন, বাইরের কথাবার্তা তাঁকে একেবারেই প্রভাবিত করে না, এমন নয়। তিনি মানুষ, মেশিন নন। তাই সমালোচনায় খারাপও লাগে। কিন্তু সেই চাপ সামলে মাঠে কী করতে হয়, তা অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ২২ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন সঞ্জু। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদেই মাত্র ১৪.৫ ওভারে ১৬৩/৩ তুলে সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। টানা পাঁচটি ইনিংসে ব্যর্থতার পর এই ইনিংস খেললেন তিনি। ফলে ম্যাচের আগে তাঁর জায়গা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, ব্যাট হাতেই তার জবাব দিলেন সঞ্জু।

দেশজোড়া সমালোচনা কী ভাবে সামলান? সঞ্জুর উত্তর, ‘আমি ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু কখনও কখনও সেই ওয়াই-ফাই আবার চালুও হয়ে যায়, কিছু মন্তব্য চোখে পড়ে।’

মঙ্গলবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে যেন উত্তর দেওয়ার রাতই ছিল সঞ্জু স্যামসনের। মাত্র ২২ বলে ৫৭ রান। আর সেই ঝড়ের সৌজন্যেই আফগানিস্তানকে সাত উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত।


দলে নিজের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। আগের ম্যাচগুলিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী রান না পাওয়ায় সঞ্জুকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল চাপ। কিন্তু দিল্লিতে শুরু থেকেই সেই চাপকে উড়িয়ে দেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। তাঁকে সঙ্গ দেন অভিষেক শর্মা। দু’জনে মিলে পাওয়ার প্লে-তেই তুলে ফেলেন ৮২ রান।

পঞ্চম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের এক ওভারেই সঞ্জু মারেন তিনটি চার এবং একটি ছক্কা। আসে ২০ রান। পরের ওভারেও আক্রমণাত্মক মেজাজ বজায় রাখেন তিনি। সঞ্জুর ব্যাট থেকে আসে দু’টি ছক্কা ও দু’টি চার, অভিষেকও মারেন একটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ৫৭ রান করে থামেন সঞ্জু। অভিষেকের সংগ্রহ ১৯ বলে ৩৯।

এর পর ইশান কিশন ৩৮ রানে অপরাজিত এবং তিলক বর্মা ১৫ রানে অপরাজিত থেকে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

এর আগে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০ ওভারে ১৫৯/৮-এর বেশি করতে পারেনি আফগানিস্তান।

ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল নীতীশ কুমার রেড্ডি। তিন ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। আর্শদীপ সিং পান দু’টি উইকেট। জসপ্রীত বুমরাহ, অক্ষর পটেল এবং রবি বিষ্ণোই একটি করে উইকেট নেন।

ম্যাচে ভারতের একমাত্র পরিবর্তন ছিল বিষ্ণোইকে খেলানো। সাইড স্ট্রেনের কারণে বাকি সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া বরুণ চক্রবর্তীর জায়গায় দলে ঢোকেন তিনি।

জয়ের পর সঞ্জু জানান, ক্রিকেটারদের নিয়ে কে কী বলবেন, সেটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাঁর কথায়, ‘কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার কিছু বলেন, কেউ আবার কিছু বলেন না। এটা খুব স্বাভাবিক। তাঁরা কী বলবেন, কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। তাঁরা ইতিবাচক ভাবে কথা বলতে পারেন, আবার নেতিবাচক কথাও বলতে পারেন। কী ভাবে এই সব সামলাতে হয়, সেটা বোঝার মতো পরিণত এবং অভিজ্ঞ আমি হয়ে গিয়েছি।’

তবে অভিজ্ঞতা থাকলেও সমালোচনায় যে একেবারেই কষ্ট হয় না, তা বলছেন না সঞ্জু। বরং বেশ খোলাখুলিই বললেন, ‘খারাপ অবশ্যই লাগে। আমি তো মেশিন নই, রোবটও নই। স্বাভাবিক ভাবেই একটু প্রভাবিত হই। কিন্তু তার পরে নিজেকেই বোঝানোর চেষ্টা করি—তুমি কে এবং তোমার কী করা দরকার।’

ভারতীয় ক্রিকেটারদের উপর প্রত্যাশা এবং নজরদারি যে অন্য রকম, সেটাও মেনে নিয়েছেন সঞ্জু। তাঁর মতে, বাইরের কথাবার্তা পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আসল বিষয় হল নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা।সঞ্জু বলেন, ‘ভারতের ক্রিকেটারদের উপর বাইরের কথাবার্তার প্রভাব পড়ে।


কিন্তু নিজের মানসিকতা নিয়ে খুব পরিষ্কার থাকতে হবে। কী ভাবে প্রস্তুতি নেবে, কী ভাবে খেলবে—সেটা ঠিক রাখতে হবে।’

আর সেই কারণেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাট করার সময় বাইরের আওয়াজ মাথায় ঢুকতে দেননি। তাঁর কথায়, ‘আমি যদি ওই সব কথায় মন দিতাম, তা হলে এ ভাবে ব্যাট করতে পারতাম না। বল মারার আগে দশ বার ভাবতাম। বল ব্যাটে লেগে বাইরে চলে গেলে আবার ওয়াই-ফাই সমস্যা শুরু হত।’

অর্থাৎ, সঞ্জুর লড়াইটা শুধু প্রতিপক্ষের বোলারের বিরুদ্ধে নয়, বাইরের শব্দের বিরুদ্ধেও। দিল্লিতে ২২ বলে ৫৭ রানের ইনিংস দিয়ে আপাতত সেই লড়াইয়ে নিজের জবাব দিয়ে রাখলেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার।

Related posts

Leave a Comment