32 C
Kolkata
September 16, 2026
কলকাতা

চিটফান্ড মামলার সূত্রে কলকাতার ছ’টি ঠিকানায় ইডির তল্লাশি

সংবাদ কলকাতা: চিটফান্ড সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে বুধবার সকাল থেকে কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর, শহরের অন্তত ছ’টি ঠিকানায় একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর এবং রবীন্দ্র সরোবর এলাকার ঠিকানাতেও তদন্তকারী আধিকারিকেরা পৌঁছেছেন বলে জানা গিয়েছে।

সাতসকালে নারকেলডাঙা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায় ইডির একটি দল। সূত্রের দাবি, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে চিটফান্ড সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে। অভিযোগ, একটি চিটফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করার পরে সেই অর্থ অন্য সংস্থার মাধ্যমে অন্য খাতে বিনিয়োগ বা ব্যবহার করা হত।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ‘এপিএম’ নামের একটি চিটফান্ডকে ঘিরেই বর্তমান তদন্ত। ওই সংস্থায় যাঁরা টাকা রেখেছিলেন, তাঁদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই মামলার তদন্তে চিটফান্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের বাড়ি ও বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রের দাবি, চিটফান্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন ‘লিঙ্কম্যান’-এর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, পরে কোন সংস্থার মাধ্যমে সেই অর্থ কোথায় সরানো হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কী ধরনের আর্থিক যোগাযোগ ছিল, তা তদন্ত করে দেখছেন আধিকারিকেরা।

এ দিনের তল্লাশিতে নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তবে অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এই তল্লাশি অভিযানের সঙ্গে আগের দিনের একটি গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার নির্মাণ ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে ইডি। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল করে আবাসন তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অমিতকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডাকা হয়েছিল। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

২০২৩ সালে জমি দখল, প্রতারণা এবং ভুয়ো নথি ব্যবহারের অভিযোগে অমিতের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পুলিশে দায়ের হওয়া সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে পরে পৃথক মামলা করে তদন্ত শুরু করে ইডি।

অমিত গঙ্গোপাধ্যায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত—এমন দাবিও বিভিন্ন মহলে রয়েছে। তবে এই পরিচিতির সঙ্গে বুধবারের চিটফান্ড মামলার তল্লাশি অভিযানের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তকারী সংস্থার তরফে স্পষ্ট করা হয়নি।

কলকাতার একাধিক এলাকায় একসঙ্গে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযানের শেষে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হয় কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment