28 C
Kolkata
September 9, 2026
রাজ্য

১০,৭৮৩ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে বাংলার সঙ্গে আরও জুড়বে পড়শি রাজ্য, অনুমোদন কেন্দ্রের

সংবাদ কলকাতা: বাংলার সঙ্গে পড়শি রাজ্যগুলির রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি রেল মন্ত্রকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বহু-রেলপথ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। তিনটি প্রকল্পে মোট খরচ হবে ১০,৭৮৩ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

অনুমোদিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে খড়গপুর থেকে ঝাড়সুগুড়া বাগদেহি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন, কাটনি থেকে পেন্দ্রা রোড পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন এবং বিলাসপুর উসলাপুর থেকে পেন্দ্রা রোড পর্যন্ত তৃতীয় রেললাইন। এই প্রকল্পগুলির ফলে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলিতে লাইনের সংখ্যা বাড়বে। ফলে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ব্যস্ত রুটে চাপ ও যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঁচ রাজ্যের ১৪টি জেলা এই তিন প্রকল্পের আওতায় আসবে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন এলাকা উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে ভারতীয় রেলের বর্তমান নেটওয়ার্কে প্রায় ৬৫৬ কিলোমিটার রেলপথ যুক্ত হবে। এর ফলে প্রায় ৪,৭৯০টি গ্রামের রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। সরকারি হিসাবে, এই গ্রামগুলিতে বসবাসকারী প্রায় ৫৬ লক্ষ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন।

রেলপথের সক্ষমতা বাড়লে যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলও আরও মসৃণ হবে। রেলের পরিচালন দক্ষতা এবং পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা কমিয়ে আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পগুলির অন্যতম লক্ষ্য।

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও প্রকল্পগুলির গুরুত্ব যথেষ্ট। কয়লা, সিমেন্ট, লোহা ও ইস্পাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহণের জন্য সংশ্লিষ্ট রেলপথগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টন পণ্য রেলে পরিবহণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

শুধু শিল্প ও বাণিজ্য নয়, পর্যটন এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে। তারাতারিণী মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, বান্ধবগড় ব্যাঘ্র সংরক্ষণকেন্দ্র, বিরাটেশ্বর মন্দির, অমরকণ্টক মন্দির, জ্বালেশ্বর ধাম, আচানক্মার ব্যাঘ্র সংরক্ষণকেন্দ্র, খুটাঘাট বাঁধ, মালহার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং রতনপুর মহামায়া মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবেশের দিক থেকেও প্রকল্পগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রেলপথে পণ্য পরিবহণ বাড়লে সড়কপথের উপর চাপ কমবে এবং জ্বালানি খরচও কমানো সম্ভব হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পগুলির ফলে বছরে প্রায় ১২ কোটি লিটার তেল আমদানি কমতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৬২ কোটি কিলোগ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রায় ২ কোটি ৪৮ লক্ষ গাছ লাগানোর সমতুল্য।

কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনার আওতায় সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হবে। মানুষ, পণ্য ও পরিষেবার দ্রুত চলাচলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে এই রেল সম্প্রসারণের পিছনে।

Related posts

Leave a Comment