বহরাইচ—এক বছর ধরে মাটির ভাঁড়ে খুচরো পয়সা আর নোট জমিয়েছিল আট বছরের অল্ফাজ শেখ। সেই সঞ্চয় নিজের জন্য না রেখে নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য দিয়ে দিল তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের বহরাইচের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে নিজের জমানো টাকাভর্তি মাটির ভাঁড় তুলে দেয় সে। খুদের এই মানবিক উদ্যোগে আপ্লুত প্রশাসনের আধিকারিকেরাও।
অল্ফাজের ইচ্ছা ছিল, এক বছর ধরে সযত্নে জমানো অর্থ যেন নেপালের বিপর্যস্ত মানুষের কাজে লাগে। জেলা প্রশাসনের কাছে নিজের সেই ইচ্ছার কথা জানায় সে। সরকারি আধিকারিকেরাও শিশুটির সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার সঞ্চয়ের অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানে বিপর্যয়ের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশের বহরাইচ জেলার একটি সীমান্ত নেপালের সঙ্গে যুক্ত। বৃহস্পতিবার সেখানেই গণ্ডক নদীর স্রোতে ভেসে আসা ১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ করে দেহগুলি নেপাল প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
নেপালের বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত। কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। নেপাল, ভারত এবং তিব্বতের বিভিন্ন নদী ও জলপথে মৃতদেহ ভেসে ওঠার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অল্ফাজের ছোট্ট সঞ্চয় মানবিকতার অন্য বার্তা দিয়েছে।
তবে অল্ফাজের মাটির ভাঁড়টি কী ভাবে নেপালের হাতে পৌঁছবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল কিছুটা জটিলতা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া ১৪টি মৃতদেহ নেপাল প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার সময় অল্ফাজের মাটির ভাঁড়টিও পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাঁড়টি অক্ষত অবস্থায় নিয়ে যেতে নেপাল প্রশাসনের তরফে সম্মতি মেলেনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাটির ভাঁড়টি ভেঙে তার ভিতরের অর্থ সংগ্রহ করে সরাসরি কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হলে তা বেশি কার্যকর হবে। কিন্তু বহরাইচ প্রশাসন খুদের আবেগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহেন্দ্র সিংহ তাবর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অল্ফাজের মাটির ভাঁড়টি নেপাল দূতাবাসে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, শিশুটির নিজের হাতে জমানো অর্থ যেন ভেঙে বা আলাদা না করে যথাসম্ভব অক্ষত অবস্থায় নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
অল্ফাজের সঞ্চয়ের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু আট বছরের এক শিশুর এক বছরের সঞ্চয় বিপর্যস্ত প্রতিবেশী দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে বার্তা দিয়েছে, তা ইতিমধ্যেই বহরাইচে বিশেষ নজর কেড়েছে। নিজের ছোট্ট সঞ্চয় দিয়ে বড় মানবিকতার নজির গড়েছে তৃতীয় শ্রেণির এই পড়ুয়া।
