দিল্লি—দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির মোতি বাগ এলাকায় রবিবার দুপুরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ছ’তলা একটি আবাসিক বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুরু হয়েছে জোরকদমে উদ্ধারকাজ। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত।
দিল্লি অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ বাড়িটি ভেঙে পড়ে। খবর পাওয়ার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই, ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ দমকলের কাছে খবর পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে আটটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য আরও ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছয়।
ধ্বংসস্তূপের নীচে কত জন আটকে রয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার অমিত গোয়ল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আটকে পড়া মানুষের নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ চালাচ্ছেন।

পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে বহু পড়ুয়া পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় তাঁদের অনেকেই বাড়িতে ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় ওই বাড়িতে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন। আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতেও পড়ুয়ারা পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকেন।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে কয়েক জনের আর্তনাদ শোনা গিয়েছে বলেও স্থানীয় এক পেয়িং গেস্ট পড়ুয়া জানিয়েছেন। বিকেল পর্যন্ত বেশ কয়েক জনকে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের দ্রুত দিল্লির এমসের ট্রমা কেয়ার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, সে দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের।
ভেঙে পড়া বাড়িটির নীচে বেশ কয়েকটি গাড়ি পার্ক করা ছিল। বাড়িটি ধসে পড়ায় গাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে বাড়িটির মালিক হিসেবে আনন্দ বনসলের নাম উঠে এসেছে। তবে বাড়িটি ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাড়িটির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল। সেই কাজের সঙ্গে বাড়ি ভেঙে পড়ার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনটির নির্মাণগত অবস্থাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দিল্লি পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সমন্বয় করে উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি আটকে পড়া সকলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার জেরে গোয়ায় নির্ধারিত দলীয় কর্মসূচি বাতিল করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর। দিল্লির দুর্ঘটনার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতেই তিনি কর্মসূচি বাতিল করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাস্থলটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হওয়ায় এলাকায় বহু পড়ুয়ার বসবাস রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরই বাড়িটির ধসের প্রকৃত কারণ এবং ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি আরও স্পষ্ট হবে।
