বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির গতি যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের প্রকৃত GDP বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সোমবার জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (NSO) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
তবে গত অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের তুলনায় বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে GDP বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৬ শতাংশ। সেই তুলনায় এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি হলেও, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে এই পরিসংখ্যান ভারতীয় অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
NSO-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ধ্রুব মূল্যে ভারতের প্রকৃত GDP-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রকৃত GDP বেড়েছে ৭.৮ শতাংশ।
অন্য দিকে, বর্তমান মূল্যে নামমাত্র GDP-ও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে তা ১০.৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৮.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে নামমাত্র GDP ছিল ৮০ লক্ষ কোটি টাকা।

এই বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে মোট স্থায়ী মূলধন গঠন বা GFCF-এর বৃদ্ধি ১১.৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের ত্রৈমাসিকের ১০.৫ শতাংশের তুলনায় বেশি। উৎপাদন ক্ষেত্রেও ৯.২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
মোট মূল্য সংযোজন বা GVA-ও শক্তিশালী বৃদ্ধি দেখিয়েছে। প্রকৃত GVA ৮.২ শতাংশ বেড়ে ৭৩.৮২ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। নামমাত্র GVA-র বৃদ্ধি হয়েছে ১১.৫ শতাংশ।
GDP
বৃদ্ধির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা, তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তির কারণে এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
তবে অর্থনীতির সব ক্ষেত্র একই গতিতে এগোয়নি। বেশ কিছু সূচকে বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমার ইঙ্গিতও রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা অর্থনীতিকে শক্তি জোগালেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানির দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা আগামী দিনে ভারতের বৃদ্ধির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ GDP বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও শক্তিশালী দেশীয় চাহিদা, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জেরে অর্থনীতি আপাতত শক্ত ভিতের উপরই রয়েছে।
