28 C
Kolkata
August 31, 2026
খেলা

জামিন মিলল না, আপাতত জেলেই বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক

নিজস্ব সংবাদদাতা — যৌন হেনস্থা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলার তরুণ ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের জামিনের আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের পর সোমবার হাইকোর্টেও স্বস্তি না মেলায় আপাতত ১৪ দিন জেল হেফাজতেই থাকতে হবে দিল্লি ক্যাপিটালসের এই ক্রিকেটারকে।

কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেকের হয়ে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, ক্রিকেট মরশুমের বাছাই পর্ব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন জেলে থাকলে তরুণ ক্রিকেটারের কেরিয়ারে তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই জামিনের আবেদন করা হয়।

অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানান, গত ১১ অগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁর একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস পুলিশ ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্ত শেষ করে চার্জশিটও জমা দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। এর আগে নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ক্রিকেটার।


তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আপাতত জামিনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জামিনের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতেই আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চুঁচুড়া আদালত প্রথমে অভিষেককে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার তাঁকে ফের আদালতে তোলা হয়। জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কর্নাটকের এক মেডিক্যাল পড়ুয়া তরুণী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিষেক তাঁর সঙ্গে সহবাস করেন এবং যৌন হেনস্থা করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছিলেন। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ।

জুনের শেষ দিকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিষেককে গ্রেপ্তারের আগে চন্দননগরে তাঁর বাড়িতেও একাধিকবার গিয়েছিল পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ অগস্ট রাতে দমদম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মগরা থানার পুলিশ।


অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারা-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই এবং ৭২ ধারাতেও মামলা রয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্রিকেটার।

৩২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা অভিষেকের সামনে এখন আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি পরিস্থিতিতে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আপাতত তাঁকে বিবেচনা করা হয়নি। তবে মামলায় অভিযোগ ওঠা মানেই তিনি দোষী নন; আদালতে প্রমাণ ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Related posts

Leave a Comment