August 28, 2026
রাজ্য

যাদবপুরে ‘কিষেণজি স্যালুট’ নিয়ে সরব শুভেন্দু

সংবাদ কলকাতা: রাখিবন্ধন উৎসবের অনুষ্ঠানে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ লেখা এবং কলকাতার রাস্তায় ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ স্লোগান ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নতুন প্রজন্মকে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার রাখিবন্ধন উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে যান তিনি। সেখানেই কলকাতার রাস্তায় ‘আজ়াদি’ স্লোগান শুনলে তাঁর কষ্ট হয় বলে মন্তব্য করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ১৯৪৭ সালেই স্বাধীন হয়েছে।


এরপর সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর প্রশ্ন, যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের একাধিক যুদ্ধ হয়েছে, সেই কাশ্মীর নিয়েই কলকাতার রাস্তায় ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ লেখা হবে কেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ লেখা নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।

মাওবাদী নেতা কিষেণজির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোট বয়কট এবং সংবিধান পোড়ানোর মতো বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত একজনকে কেন এভাবে সম্মান জানানো হবে, তা বোধগম্য নয়। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে আপত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা, কোনও রাজনৈতিক নেতার রচনা নয়।

দেশের ভিতর থেকে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। দেশের নতুন প্রজন্মকে দেশকে শক্তিশালী করার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রাখিবন্ধনের অনুষ্ঠানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ এবং ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ স্লোগান নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে এনসিসি বাধ্যতামূলক করার পক্ষেও সওয়াল করলেন তিনি।


এদিন স্কুল ও কলেজে এনসিসি প্রশিক্ষণ নিয়েও বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে প্রত্যেক স্কুল ও কলেজে এনসিসি বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বন্ধ করে জয়হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল, যা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এনসিসির কোনও বিকল্প হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এইট-বি মোড়ে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা শুভেন্দু অধিকারীর। ফলে রাখিবন্ধনের দিন যাদবপুরকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment