32 C
Kolkata
August 21, 2026
রাজ্য

শিলিগুড়িতে শাহের ব্যস্ত সফর, নজরে সীমান্ত ও পাহাড়ের রাজনীতি

শিলিগুড়ি— দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। শুক্রবার শিলিগুড়িতে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। শনিবার পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাগডোগরা বিমানবন্দরে শাহকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। শাহের এই সফরে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সুকনার একটি হোটেলে ছিলেন শাহ। শুক্রবার সকালে সেখান থেকে তাঁর যাওয়ার কথা শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বলের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে। সেখানে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস্ নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকদেরও থাকার কথা রয়েছে।

শিলিগুড়ি করিডর দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনাই শাহের বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে। পরে সশস্ত্র সীমা বলের আধিকারিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর।

এর পর শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে যাবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা নিয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য সরকারের কয়েক জন মন্ত্রীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পরিবর্তে নতুন আইনে কোন ধারা কার্যকর হয়েছে, তা সাধারণ মানুষকে সহজ ভাবে বোঝানো হবে। আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রদর্শনী চলার কথা রয়েছে।


শুক্রবারের সরকারি কর্মসূচি শেষ করে হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা শাহের। সেখানে বিজেপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েও সেখানে আলোচনা হতে পারে।

শনিবার সফরের দ্বিতীয় দিনে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শাহ। পর পর দু’টি বৈঠকের মাধ্যমে পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন দলের দাবি এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এর পর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ফলে দু’দিনের সফরে সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে পাহাড়ের রাজনীতি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শাহের বৈঠক ও বার্তার দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।

Related posts

Leave a Comment