সংবাদ কলকাতা— উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস্ নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। শিলিগুড়ির রানিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বলের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের শিলান্যাস এবং কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অনুষ্ঠান থেকে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ তোলেন শাহ। একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রশংসা করেন তিনি।

শাহের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ২০১৪ সাল থেকেই কেন্দ্র রাজ্যের কাছে জমি চেয়ে আসছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ২০১৪ সাল থেকে ১১২৯ একর জমি চাওয়া হলেও এত দিন পাওয়া যায়নি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার বার আবেদন করেও লাভ হয়নি।’কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও দাবি, নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হ
বির জমি সংক্রান্ত জটিলতা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে আরও জমি হস্তান্তরের বিষয়েও রাজ্য সরকার সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।
শিলিগুড়ি করিডরকে নিরাপদ রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান শাহ। তাঁর দাবি, চোপড়া, কিশানগঞ্জ এবং ধুবড়িকে কেন্দ্র করে নজরদারি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত সামরিক মহড়ার মাধ্যমেও এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরখ করা হচ্ছে।
সশস্ত্র সীমা বলের ভূমিকার প্রশংসা করে শাহ বলেন, ভারত-নেপাল এবং ভারত-ভুটান সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন বাহিনীর জওয়ানেরা। উন্মুক্ত এবং কাঁটাতারহীন সীমান্তে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। সেই কাজ সশস্ত্র সীমা বল নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘এক সীমান্ত, এক বাহিনী’ নীতির কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নির্দিষ্ট সীমান্তের দায়িত্ব নির্দিষ্ট একটি বাহিনীর হাতে থাকলে কমান্ড ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি কমে এবং নজরদারি আরও কার্যকর হয়।

শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শাহ। ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি স্টেশনকে আধুনিক মানের স্টেশনে রূপান্তরের কাজ চলছে বলে জানান শাহ। পাশাপাশি দিল্লি-শিলিগুড়ি উচ্চগতির রেল যোগাযোগের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রানিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বলের নতুন প্রশাসনিক ভবন, ১৯তম ব্যাটালিয়ন, ১২তম ব্যাটালিয়ন এবং নিউ জলপাইগুড়ির ট্রানজিট ক্যাম্পের উদ্বোধনও অনুষ্ঠানে করা হয়। কেন্দ্রের দাবি, এই পরিকাঠামোগুলি চালু হলে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়বে।
শিলিগুড়ি করিডর ভৌগোলিক এবং কৌশলগত—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভারতের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সরু ভূখণ্ডের গুরুত্ব অনেক। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
