32 C
Kolkata
August 21, 2026
খেলা

কোচিংয়ে পা রাখার আগেই ডোপিংয়ের ধাক্কা, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের লড়াই স্বপ্না বর্মণের সামনে

সংবাদ কলকাতা— কেরিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন কয়েক দিন আগেই। দীর্ঘদিনের চোট, শারীরিক ধকল এবং প্রতিযোগিতার চাপ সামলাতে না পেরে অ্যাথলেটিক্স থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন ভারতের অন্যতম সফল হেপ্টাথলিট স্বপ্না বর্মণ। কিন্তু অবসরের সেই সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের অভিযোগ উঠল। নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ায় জাতীয় ডোপিং বিরোধী সংস্থা বা নাডা তাঁকে সাময়িক ভাবে নির্বাসিত করেছে।

নাডার সাম্প্রতিক সাময়িক নির্বাসিত খেলোয়াড়দের তালিকায় রয়েছে ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী স্বপ্নার নাম। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর নমুনায় অ্যানাবলিক-অ্যান্ড্রোজেনিক স্টেরয়েড বোল্ডেনোনের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। সেই কারণেই আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই পর্যায়ে অভিযোগের বিষয়ে স্বপ্নার বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণ প্রকাশ্যে আসেনি।

স্বপ্নার ক্রীড়াজীবন অবশ্য একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্যে ভরা। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন তিনি। এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট স্বপ্নাই। তার আগে ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক্সেও ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জলপাইগুড়ির এই ক্রীড়াবিদ।

তবে চোট বার বার তাঁর কেরিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত চলতি মাসের শুরুতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন স্বপ্না। খেলার মাঠ ছাড়ার পর কোচিংয়ের মাধ্যমে অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছিল। বেঙ্গালুরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে কোচের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়।

খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও পা রেখেছিলেন স্বপ্না। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজনীতির ময়দান থেকেও সরে আসেন। ভোটের পর তাঁর বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ঘিরেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। স্বপ্না জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর পরিবার হুমকির মুখে ছিলেন।

একের পর এক প্রতিকূলতা সামলে নতুন জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্বপ্না। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘একটা পথ বন্ধ হয়ে গেলে আরেকটা পথ খুলে যায়। সে রকমই কোনও পথের অপেক্ষায় রয়েছি।’ সেই নতুন পথের শুরুতেই ডোপিংয়ের অভিযোগ তাঁর সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

নাডার এক উচ্চপদস্থ কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অবসর ঘোষণা করলেও স্বপ্নার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া থামবে না। তাঁকে শুনানিতে অংশ নিতে হবে। প্রয়োজনে তিনি ‘বি’ নমুনা পরীক্ষার আবেদনও করতে পারবেন। এমনকি ভবিষ্যতে অবসর ভেঙে প্রতিযোগিতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও, শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম কার্যকর থাকবে।

অর্থাৎ, খেলার মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরেও স্বপ্নার সামনে এখন নতুন এক লড়াই। দেশের অন্যতম সফল হেপ্টাথলিটের কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ে ডোপিংয়ের এই অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তির উপর বড় ধাক্কা। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এখন শুনানি এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারবেন কি না, সেটাই এখন স্বপ্না বর্মণের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Related posts

Leave a Comment