August 18, 2026
দেশ বিদেশ

ভারতের এসআইআর এবার আমেরিকাতেও? জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে কথোপকথনের দাবি ট্রাম্পের, SAVE America Act নিয়ে জল্পনা

ওয়াশিংটন— ভারতের ভোটার তালিকা পুনঃযাচাইয়ের এসআইআর প্রক্রিয়া এবার আমেরিকাতেও চালু হতে পারে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থায় আরও কঠোর ভোটার যাচাই এবং সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি।

২০২৬ সালে দেশের একাধিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে ভোটার তালিকার তথ্য পুনঃযাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াকে বিজেপির তরফে অনুপ্রবেশকারী ও অযোগ্য ভোটার শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, যাচাইয়ের নামে প্রকৃত ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে এসআইআর নিয়ে সেই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় আরও কড়া যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমেরিকান সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ও সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আলোচনার সূত্র ধরেই আমেরিকার ভোটার যাচাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ভারতে শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটার ভোট দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম ভোট ইমেলের মাধ্যমে পড়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারের জন্য সচিত্র পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা ছিল।

এই প্রসঙ্গেই আমেরিকার নির্বাচনে নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ‘SAVE America Act’ পাশ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এই আইন কার্যকর হলে ভোটার হিসেবে যোগ্যতা যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর হতে পারে বলে ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের এসআইআর-এর মতো কোনও প্রক্রিয়া কি আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থাতেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে? যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যে সরাসরি আমেরিকায় ভারতের এসআইআর প্রক্রিয়া হুবহু চালুর ঘোষণা নেই। বরং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের যে পদ্ধতি রয়েছে, তার উদাহরণ তুলে ধরে আমেরিকার নির্বাচনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।

ভারতে এসআইআর নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। শাসক দলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়ার জন্য যাচাই জরুরি। বিরোধীরা আবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, প্রশাসনিক যাচাইয়ের জেরে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে। ফলে ভারতের অভিজ্ঞতা টেনে আমেরিকায় একই ধরনের কঠোর ভোটার যাচাইয়ের পক্ষে সওয়াল ট্রাম্পের বক্তব্যকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্তব্য থেকেই আমেরিকায় ভারতের এসআইআর প্রক্রিয়া চালুর কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তবে মার্কিন নির্বাচনে ভোটার পরিচয়, নাগরিকত্ব যাচাই এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান যে আরও কঠোর হচ্ছে, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

Related posts

Leave a Comment