August 2, 2026
রাজ্য

সব্জি, মাছ-মাংসের দামে নজর প্রশাসনের, একাধিক বাজারে পুলিশ-প্রশাসনের আচমকা অভিযান

কলকাতা— আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, ঝিঙে, পটল, টমেটো-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসব্জির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যের একাধিক বাজারে রবিবার যৌথ অভিযান চালাল পুলিশ ও প্রশাসন। কোচবিহার, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে পাইকারি ও খুচরো দামের তুলনামূলক হিসাব খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা। একইসঙ্গে কালোবাজারি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়।

কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে সকালেই পৌঁছে যায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের একটি দল। বাজারের একাধিক সব্জির দোকানে গিয়ে বিক্রেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পণ্যের বর্তমান বিক্রিমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ, স্থানীয় বিধায়কের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বর্ষার মরসুমে অতিবৃষ্টির কারণে শাকসব্জি দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতা থাকে। তার সঙ্গে আসামের বন্যা পরিস্থিতির প্রভাবও সরবরাহ ব্যবস্থার উপর পড়েছে। ফলে কিছু সব্জির দামে বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক কারণে হয়েছে, নাকি কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তা যাচাই করতেই এই অভিযান চালানো হয়।

ভবানীগঞ্জ বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে সরবরাহের উপরই মূলত দাম নির্ভর করে। তাঁদের বক্তব্য, পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রায় একই দামে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করেন। পরে খুচরো বিক্রেতারাও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করেন। তাই সব্জির দাম সব সময় একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বহু ক্রেতার মত, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। তাঁদের আশা, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চালানো হবে।

কোচবিহারের পাশাপাশি হুগলির শ্রীরামপুর, ব্যান্ডল, চন্দননগর এবং উত্তরপাড়ার বিভিন্ন বাজারেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে পাইকারি ও খুচরো বাজারে দামের পার্থক্য, মজুতদারি বা কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়া বাজারেও যৌথ অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জীব চক্রবর্তী। শুধু শাকসব্জিই নয়, মাছ ও মাংসের বাজারদরও পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা।

প্রশাসনের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত দাম দিতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই নজরদারি। বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দিনেও নিয়মিত অভিযান এবং পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া হবে।

Related posts

Leave a Comment