August 1, 2026
SPORTS

জুডোয় ভারতের প্রথম সোনা অস্মিতার

নয়াদিল্লি: ইতিহাস গড়লেন ত্রিপুরার মেয়ে অস্মিতা দে। কমনওয়েলথ গেমসের মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার হেইডি কুয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের প্রথম জুডো স্বর্ণপদক জিতে নিলেন ২৩ বছরের এই তরুণী। তবে এই জয় শুধুই একটি পদক জয়ের গল্প নয়— এটি এক বাবার স্বপ্ন পূরণের গল্প।

ত্রিপুরার বেলোনিয়ার বাসিন্দা অস্মিতা দে গত বছরই হারিয়েছেন তাঁর বাবা অর্জুন কুমার দে-কে। পেশায় সাইকেল মেকানিক ছিলেন তিনি। অল্প আয়ে সংসার চালিয়েও মেয়ের খেলাধুলার স্বপ্নকে কখনও থামতে দেননি। হাঁটুর চোট থেকে শুরু করে চিকিৎসা— প্রতিটি কঠিন সময়ে মেয়ের পাশে ছিলেন তিনিই। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রেন স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্বর্ণপদক জয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে অস্মিতা বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর মনে হয়েছিল সব শেষ। মনে হয়েছিল, আর কিছুই করতে পারব না। পরে নিজেকে বোঝাই, বাবা চাইতেন আমি যেন আমার স্বপ্নের পিছনে ছুটি। সেই ভাবনাই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।”

বেলোনিয়ার সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা অস্মিতা প্রথমে অ্যাথলেটিক্সে ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিতেন। পরে এক কোচ তাঁর প্রতিভা দেখে জুডোয় আসার পরামর্শ দেন। কোচ বীণা দেবনাথ ও মানিক লাল দেবের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ২০১৮ সালে তিনি স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI)-এর ভোপাল আঞ্চলিক কেন্দ্রে যোগ দেন। পরে টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS)-এর ডেভেলপমেন্ট গ্রুপেও সুযোগ পান।

কমনওয়েলথ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের ইভা ইউইংকে ইপ্পনে হারান অস্মিতা। সেমিফাইনালে আয়োজক দেশের সামার শ-কে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠেন। ফাইনালে কানাডার হেইডি কুয়াচ প্রথমে এগিয়ে গেলেও অস্মিতা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। গোল্ডেন স্কোরে নির্ণায়ক থ্রো করে নিশ্চিত করেন ভারতের জুডো ইতিহাসের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস স্বর্ণপদক।

অস্মিতার এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ত্রিপুরা। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “অস্মিতা দে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও ত্রিপুরার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।” রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী টিঙ্কু রায়ও এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, মেয়ের জয়ে আবেগে ভেসেছেন অস্মিতার মা। তিনি বলেন, “পুরো পরিবার আজ ভীষণ খুশি। ওর এই সাফল্য আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত।”

উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ গেমসের আগে অস্মিতা এশিয়ান ক্যাডেট ও জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ, জুনিয়র এশিয়া কাপ, কুয়েত এশিয়ান ওপেন এবং কাসাব্লাঙ্কা আফ্রিকান ওপেনেও পদক জিতে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। এবার কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জিতে তিনি শুধু ইতিহাসই গড়লেন না, বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নও পূরণ করলেন।

Related posts

Leave a Comment