July 24, 2026
কলকাতা

নিট আন্দোলনের মিছিলে ধর্মতলায় উত্তেজনা, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-বোতল ছোড়া, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাসে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভ

সংবাদ কলকাতা: নিট পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের আবহ শুক্রবার পৌঁছে গেল কলকাতার রাজপথেও। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয় এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-সহ একাধিক বাম ছাত্র সংগঠন। মিছিলে বহু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ যোগ দিলেও ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছতেই পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জলের বোতল এবং জুতো ছুড়তে শুরু করে। পুলিশের গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। পরে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।

এই সংঘর্ষের জেরে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধর্মতলা চত্বর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। বিশৃঙ্খলার মধ্যে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি। কয়েকজন সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক আহত হন বলে জানা গিয়েছে। ভাঙচুরের মুখে পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জামও। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব কলকাতা। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর আন্দোলনের মধ্যেই ‘বহিরাগত’ ঢুকে অশান্তি ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক সমর্থক দাবি করেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের আচরণে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে চলে যায়।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, নিট আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিদেশ থেকে উসকানি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রায় ৪০০ পাকিস্তানি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।

উত্তেজনার মধ্যেই আন্দোলনকারীরা রানি রাসমনি এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি চান। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ গার্ডরেল সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান বিক্ষোভের অনুমতি দেয় বলে জানা যায়।

এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজ্যে কোনও ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী বা হিংসাত্মক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। আইন নিজের পথে চলবে এবং যারা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Related posts

Leave a Comment