সংবাদ কলকাতা— জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদান ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, এখন থেকে আর কোনও পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধান জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না। এই দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের উপরই ন্যস্ত থাকবে। খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য দপ্তর গোটা রাজ্যের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা প্রকাশ করবে।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় বহু ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের সন্ধান মিলেছে। সেই কারণেই গোটা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যসচিব বলেন, ‘জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। সাম্প্রতিক সময়ে বহু অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে ভুয়ো শংসাপত্রের প্রমাণও মিলেছে। এই অনিয়ম বন্ধ করতেই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, শংসাপত্র প্রদানকারী কোনও সরকারি আধিকারিক অনিয়মে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট পোর্টালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।এই যা
চাইয়ের জন্য বাড়ি বাড়ি সমীক্ষাও চালানো হবে। যাঁদের কাছে বৈধ শংসাপত্র নেই, তাঁদের শুনানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ভুয়ো বা অবৈধ শংসাপত্র বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে।মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবেন না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে বিদ্যালয়ের শংসাপত্র তৈরির ক্ষেত্রেও বহু ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতেই এই পদক্ষেপ। সব নথি স্ক্যান করে ডিজিটাল সংরক্ষণ করা হবে এবং মূল রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া হবে।
এদিকে, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা জুড়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
