July 23, 2026
রাজ্য

বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ দাবি সহযোদ্ধার

সংবাদ কলকাতা— সুটিয়ায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন মোড় এল। বরুণের আন্দোলনের অন্যতম সহযোদ্ধা নন্দদুলাল দাস পুলিশের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে দাবি করেছেন, ২০১২ সালের এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একজন ‘ষড়যন্ত্রকারী’। একই সঙ্গে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে নন্দদুলাল দাবি করেছেন, তাঁর অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে নতুন করে তদন্ত শুরু করা হোক। তাঁর বক্তব্য, তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকার কারণে প্রকৃত সত্য সামনে আসেনি।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে পুনর্তদন্তের দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেওয়ার পর মামলাটি নিয়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই গোবরডাঙায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

আগামী ৩১ আগস্ট বনগাঁ আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। ওই দিন বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, নন্দদুলাল দাসের অভিযোগকে পৃথক এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, তা আদালতের ওই শুনানির পর স্পষ্ট হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। নন্দদুলাল দাস তাঁর মতো করে আইনি পদক্ষেপ করেছেন। তবে এই বিষয়ে আমাদের পরিবারের আলাদা কোনও বক্তব্য বা অবস্থান নেই।’

নন্দদুলাল দাস নিজেও একজন শিক্ষক। তাঁর দাবি, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব থাকার কারণেই তাঁকে নানা ধরনের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়ায় নারী নির্যাতন, গণধর্ষণ এবং বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, সেই আন্দোলনের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছিল।

Related posts

Leave a Comment