কলকাতা— পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার লক্ষ্যে বাজেট অধিবেশনের পরিবর্তে আলাদা বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত, চলতি বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। আইন দপ্তরের তরফে এখনও পর্যন্ত বিলের খসড়া নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন না মেলায় সরকার কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না।
মবার থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলেও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল এখনই বিধানসভায় তোলা হবে না। বরং বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে সেখানে বিলটি পেশ ও পাশ করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বিল তৈরি হবে।
গত ১০ জুলাই বিচার বিভাগ জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, আইএএস অফিসার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার শত্রুঘ্ন সিংহ, অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোপালচন্দ্র মিশ্র এবং আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক ও নির্মাল্য ভট্টাচার্য।
প্রশাসনিক মহলের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনগত, সাংবিধানিক এবং সামাজিক সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই এগোতে চাইছে সরকার। তাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিলের ভাষা ও আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।
নবান্ন সূত্রের খবর, কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। সেখানে বিলটি পেশ ও পাশ করানোর পর সংবিধান অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। রাজ্যপালের সম্মতির পরই আইন কার্যকর হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিধানসভায় বিল পাশ করলেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না। প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক অনুমোদন এবং আইনি পর্যালোচনার ধাপও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট, আইন দপ্তরের মতামত এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে এই বিলের ভবিষ্যৎ।
