July 12, 2026
কলকাতা

অভিজ্ঞতার মূল্য দিতেই সুখেন্দু-সুস্মিতাদের রাজ্যসভার টিকিট, ব্যাখ্যা দিলেন দিলীপ ঘোষ

কলকাতা — তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার মধ্যে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার মূল্য রয়েছে বলেই এই তিন নেতাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক আগে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এবং তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দিলীপ ঘোষের কথায়, অতীতে কে কোন রাজনৈতিক দলে ছিলেন, তা নিয়ে এখন আর আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, বিজেপি তাঁদের নতুন করে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজ্যসভায় অভিজ্ঞ ও দক্ষ মুখের প্রয়োজন রয়েছে এবং এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য দলের দরজা বন্ধ। তবে সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা এবং প্রকাশের মতো নেতাদের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত বলেও তিনি ব্যাখ্যা দেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে প্রথমে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। পরে একই পথে হাঁটেন সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। গত ৯ জুলাই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তাঁরা। ওই দিনই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। বর্তমান বিধানসভার সংখ্যাগত সমীকরণ অনুযায়ী, বিজেপির এই তিন প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

Related posts

Leave a Comment