34.1 C
Kolkata
July 8, 2026
দেশ

গালফের সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের আবেদনে কেন্দ্র ও সিবিএসইকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

গালফ ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-কে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষায় আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের জন্য গ্রেস মার্কস, বিশেষ পরীক্ষা, ভর্তি সংক্রান্ত শিথিলতা এবং একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে সুরক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।

বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন এবং অলোক আরাধে-র ডিভিশন বেঞ্চ সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও সিবিএসইকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি পরবর্তী শুনানির আগে আবেদনকারীদের সলিসিটর জেনারেলের কাছেও মামলার কপি জমা দিতে বলা হয়েছে।

কী দাবি করা হয়েছে আবেদনে?

আইনজীবী বিনীত জিন্দল-এর মাধ্যমে দায়ের হওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী হাজার হাজার সিবিএসই পরীক্ষার্থী যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এর ফলে পরীক্ষার পরিবেশ, পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, এই পরীক্ষার্থীদের একটি ‘বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে উপযুক্ত স্বস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

গ্রেস মার্কস ও বিশেষ পরীক্ষার দাবি

আবেদনে সিবিএসই-র কাছে এককালীন গ্রেস মার্কস বা মডারেশন দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব বিষয়ে বিশেষ বোর্ড পরীক্ষা এবং বিশেষ ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা নেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।

পড়ুয়ারা যাতে নতুন পরীক্ষার ফল বা আগের ফল—যেটি ভালো হবে, সেটিই বেছে নিতে পারেন, সেই ‘বেটার-অফ-টু’ সুবিধাও চালুর দাবি জানানো হয়েছে।


ভর্তি সংক্রান্ত ছাড়ের আবেদন

আবেদনে ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন অব স্টুডেন্টস অ্যাব্রড (DASA) প্রকল্পে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নম্বরের পরিবর্তে ৬০ শতাংশ নম্বর করার আবেদন জানানো হয়েছে।

একই ধরনের ছাড় চাওয়া হয়েছে Children of Indian Workers in Gulf Countries (CIWG) কোটার ক্ষেত্রেও।

ভর্তি বাতিল না করার আবেদন

আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছেন, ফল প্রকাশে দেরি বা ফল সংশোধনের কারণে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন শিক্ষার্থীদের আবেদন বাতিল না করে। প্রয়োজনে অস্থায়ী ভর্তি (Provisional Admission) দেওয়ারও নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া সংশোধিত ফল প্রকাশ ও বিশেষ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং ও ভর্তি উইন্ডো চালুর আবেদনও করা হয়েছে, যাতে কোনও শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধজনিত উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা, পড়াশোনায় বিঘ্ন, বাস্তুচ্যুতি এবং মানসিক চাপের কারণে পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে শুধু কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হওয়া বা না হওয়ার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক হবে না।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক আবেদন সত্ত্বেও সিবিএসই বা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত কোনও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে হাজার হাজার পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Related posts

Leave a Comment