ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২৫ রানের বড় ব্যবধানে হারের পরও ভারতের তরুণ দলকে সমর্থন জানালেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর মতে, নতুন দল গড়ার প্রক্রিয়ায় এমন ওঠানামা স্বাভাবিক। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে নতুনদের নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে, তাই ধারাবাহিক সাফল্য পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করেন তিনি।
ট্রেন্ট ব্রিজে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে হেরে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে ভারত। সিরিজ জিততে ইংল্যান্ডের আর মাত্র একটি জয় প্রয়োজন।
‘নতুন দল গড়তে গেলে এমন ফল আসবেই’
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীর বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে বর্তমান ভারতের একাদশের অনেক পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, “এই দলটা নতুন করে তৈরি হচ্ছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের দল আর বর্তমান দলের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অধিনায়ক থেকে ওপেনার—অনেকেই বদলে গেছেন। হার্দিক পান্ডিয়া নেই, জসপ্রীত বুমরাহও নেই। নতুন করে দল গড়লে এমন ফল আসতেই পারে। সময় লাগবে।”
একটি ম্যাচ দেখে বিচার নয়
ভারতের এই পারফরম্যান্সকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করছেন গম্ভীর।
তাঁর কথায়, “চারটি ম্যাচ খারাপ খেললেই কোনও দল খারাপ হয়ে যায় না। কখনও প্রতিপক্ষ ভালো খেলবে, কখনও আমরা পরিস্থিতি ঠিকমতো বুঝতে পারব না। ম্যাচের পরিস্থিতি পড়তে না পারাটাই আমাদের বড় সমস্যা হয়েছে।”
তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা
ভারতীয় দলে একাধিক নতুন ক্রিকেটারের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে গম্ভীর বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে তাঁদের সময় দিতে হবে।
তিনি বলেন, “১৫ বছরের একজন ক্রিকেটার ওপেন করছে। প্রিন্স যাদব মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলছে। হর্ষিত রানা চোট কাটিয়ে ফিরেছে। ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তরুণদের সময় দিতে হবে। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলেই ওরা শিখবে।”
মিডল অর্ডারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গম্ভীর বলেন, শুধুমাত্র আগ্রাসী ব্যাটিং যথেষ্ট নয়, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলাও জরুরি।
তাঁর মতে, “টি-টোয়েন্টিতে ছোট ছোট বিষয়ও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বাতাসের দিক, মাঠের এক পাশের বড় বাউন্ডারি—সবকিছু বুঝে খেলতে হয়। সবাই যদি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে, তাহলে অভিজ্ঞ মিডল অর্ডারের দায়িত্ব পরিস্থিতি সামলে ইনিংস গড়ে তোলা।”
বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে তুলনা
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের প্রসঙ্গ টেনে গম্ভীর বলেন, তখন টপ অর্ডার দ্রুত রান তুললেও মিডল অর্ডার প্রয়োজন অনুযায়ী ইনিংস ধরে রাখতে পারত।
তিনি বলেন, “আজ সেই ভারসাম্যের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। ম্যাচের পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে।”
আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের নীতি বদলাবে না
ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে ভারত সমস্যায় পড়লেও নিজেদের ব্যাটিং দর্শন বদলাতে নারাজ গম্ভীর।
তাঁর কথায়, “পেসের বিরুদ্ধে আরও উন্নতি করতে হবে। তবে আমরা আগের দুই ম্যাচে প্রায় ১৯০ রান করেছিলাম। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেললে এমন অফ-ডে আসতেই পারে।”
সঞ্জু স্যামসন প্রসঙ্গে কী বললেন?
সঞ্জু স্যামসনকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ভারতীয় কোচ।
তিনি বলেন, “সঞ্জু ভারতের হয়ে দারুণ খেলেছে। কিন্তু বর্তমান ফর্মও দেখতে হয়। এই সিরিজে ওর ফেরার দরজা বন্ধ নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখতে হলে প্রত্যেককেই নিজের জায়গা অর্জন করতে হয়।”
গম্ভীর স্পষ্ট করে দেন, ভবিষ্যতেও দল নির্বাচন হবে শুধুমাত্র ফর্ম, পারফরম্যান্স এবং দলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই।
