ভারত ও কাতারের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে রবিবার দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার নতুন সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
বৈঠকের পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জয়শঙ্কর জানান, কাতারে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত কাতার, বাহরিন, কুয়েত এবং ওমান সফরে রয়েছেন এস জয়শঙ্কর। এই সফরের মূল লক্ষ্য চারটি দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা।
গত মাসেই কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে বিস্ফোরণে ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও কাতারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, দুই দেশই নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ওই বিস্ফোরণে ১২ জন ভারতীয়ের মৃত্যু ছাড়াও বিভিন্ন দেশের আরও বহু নাগরিক হতাহত হন। মোট ৬৬ জন আহত হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয়ও ছিলেন। আহতদের সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
ভারত ও কাতারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ১৯৭৩ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং ২০২৩ সালে সেই সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। ২০২৫ সালে কাতারের আমিরের ভারত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-এর মর্যাদা দেওয়া হয়। সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই জয়শঙ্করের এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
