July 3, 2026
দেশ

করুর পদপিষ্ট-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ডিএমকের আবেদন, তদন্তে প্রভাবের আশঙ্কায় মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

নয়াদিল্লি — তামিলনাড়ুর বহুচর্চিত করুর পদপিষ্ট-কাণ্ডের তদন্ত ঘিরে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল আর. এস. ভারতী। আদালতে ইমপ্লিডমেন্ট আবেদন করে ডিএমকের দাবি, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা রাজ্যের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য এবং নিহতদের পরিবারকে সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব চলমান সিবিআই তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর করুরে সি. জোসেফ বিজয়-র দলীয় রাজনৈতিক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হন আরও ১৪২ জন। ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সুপ্রিম কোর্ট পরে মামলাটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী ব্যুরো-র হাতে তুলে দেয়। তদন্তের উপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অজয় রাস্তোগী-র নেতৃত্বাধীন কমিটিকে।

ডিএমকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২ জুলাই তামিলনাড়ুর জনপথ ও ক্রীড়ামন্ত্রী আধব অর্জুনা, যিনি এই মামলারও অভিযুক্ত, এক জনসভায় বলেন যে করুরের মৃত্যুর ঘটনার জন্য পূর্বতন ডিএমকে সরকার দায়ী এবং ‘হিসাব মেটানোর’ সময় এসেছে। ডিএমকের দাবি, তদন্ত চলাকালীন কোনও অভিযুক্ত মন্ত্রীর এমন মন্তব্য তদন্তের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় করুরে গিয়ে নিহতদের পরিবারের হাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা, সহানুভূতিমূলক চাকরি-সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা তুলে দিতে পারেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ডিএমকে স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা তাদের নেই। তবে ওই পরিবারগুলিই যেহেতু সিবিআই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও জোসেফ বিজয় নিহতদের পরিবারপিছু ২০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন, যখন মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। বর্তমানে এই মামলার একাধিক অভিযুক্ত তামিলনাড়ু সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেছে ডিএমকে।

ডিএমকের আবেদন, সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি যেন সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি বা সিবিআইয়ের মতামত ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সঙ্গে সরকারি সুবিধা বিতরণের নামে যোগাযোগ করতে না পারেন। পাশাপাশি মন্ত্রী আধব অর্জুনার মন্তব্যের জন্য আদালত অবমাননার আবেদনও আলাদাভাবে করা হবে বলে জানিয়েছে দল।

Related posts

Leave a Comment