কলকাতা — মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সর্বদলকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের বার্তা দিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিধায়কদের জন্য আয়োজিত বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়ে ফের ঐক্যের বার্তা দিলেন তিনি। নতুন বিধায়কদের সংসদীয় রীতি-নীতি ভালোভাবে শেখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও স্মরণ করান মুখ্যমন্ত্রী।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতিতে শুরু হওয়া দু’দিনের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে শাসক ও বিরোধী—সব দলের বিধায়করা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সূচনায় শুভেন্দু বলেন, এই কর্মসূচির আয়োজন সফল করতে যাঁরা পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ। সংসদের সচিবালয়-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার ফলেই এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তৃতায় পূর্ববর্তী সরকারগুলিকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন রাজ্যে দলীয় কার্যালয় থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। যদিও তিনি বলেন, বর্তমান মঞ্চে সব দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকায় অতীত নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে চান না। নিজের বিধানসভা সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা কোনও মুখ্যমন্ত্রীর শোভা পায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুভেন্দুর অভিযোগ, অতীতে বিরোধী বিধায়ক ও সাংসদদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হত না। সরকারি প্রকল্প বা প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ডাকা হত না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলনেতাকে বারবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপরই তিনি সব দলের বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সংসদীয় নিয়মকানুন ভালোভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যাঁরা প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের এই প্রশিক্ষণ থেকে সর্বাধিক শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে রাজ্যের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই পশ্চিমবঙ্গকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
