37.7 C
Kolkata
June 29, 2026
রাজ্য

বিধানসভায় পাশ অনগ্রসর শ্রেণী সংশোধনী বিল, ভোটাভুটি ও ওয়াকআউট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

সংবাদ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অনগ্রসর শ্রেণীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল সোমবার ভোটাভুটির মাধ্যমে পাশ হয়েছে। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ করানোর পরিকল্পনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি ভোটাভুটির দাবি জানান। সেই আবেদনে সম্মতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। এরপর ডিভিশন ভোটে বিলের পক্ষে ১৮৬টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছয় জন বিধায়ক।

বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একাংশের অধিকাংশ বিধায়ক ওয়াকআউট করেন। তবে কয়েকজন বিধায়ক প্রথমে সভাকক্ষ ছাড়তে পারেননি। পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তাঁরা কক্ষত্যাগ করেন। বিধানসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কক্ষত্যাগ না করায় তাঁদের ভর্ৎসনা করেন স্পিকার।

তবে শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত শিবিরের ছয় জন বিধায়ক কক্ষত্যাগ করেননি। তাঁদের মধ্যে বাইরন বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন, কাজল শেখ এবং তৌফিকুর রহমানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অধিবেশন চলাকালীন তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে নিজেদের আসনে ফিরে যান। পরে বিল পাশ হওয়ার পর তাঁরা আবার অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত হন।

অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের বিধায়কেরা ভোটাভুটিতে অংশ নেন। বিরোধী শিবিরের ওয়াকআউট এবং কয়েকজন বিধায়কের কক্ষে থেকে যাওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সোমবার বিধানসভায় অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। তার মধ্যে একটি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ এবং অন্যটি ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’।

নতুন সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য নাগরিকেরা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদন খতিয়ে দেখে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন রাজ্য সরকারকে সুপারিশ করবে। কোনও জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, বাদ পড়া বা অতিরিক্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি জানানোও যাবে। এই ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছর বহাল রাখা হয়েছে। তবে সদস্য-সচিবের মেয়াদ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার।

এ ছাড়া সংশোধনী বিলে ২০১২ সালের আইনের তফসিলের কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পূর্ববর্তী আইনে থাকা কিছু তালিকা বাদ দিয়ে নতুন ব্যবস্থায় অনগ্রসরতার ভিত্তিতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে শ্রেণিবিভাগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই সংরক্ষিত পদের শতাংশ নির্ধারণ ও প্রয়োজনে তা সংশোধনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে মোট সংরক্ষণের হার ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ওবিসি তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রাধান্য পেয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বিলটির বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংশোধনী বিলে একাধিক বিষয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন।

বিল পাশের পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে। একদিকে সরকার দাবি করেছে, নতুন আইনের মাধ্যমে ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আইনি ভিত্তিসম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, সংশোধনীর কিছু দিক নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। ফলে এই বিল কার্যকর হওয়ার পর তার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment