বনগাঁ — সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অভিনব উদ্যোগ নিল উত্তর বনগাঁ বিধানসভা কেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে আর বিধায়ক দপ্তরে বারবার ছুটে যেতে হবে না। এবার বাড়িতে বসেই অনলাইনে আবেদন করে পাওয়া যাবে একাধিক প্রয়োজনীয় পরিষেবা। এই লক্ষ্যেই ‘ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন সার্টিফিকেট পোর্টাল’ চালু করলেন বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্য ও সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য না জেনেই বিধায়ক দপ্তরে চলে আসেন। সেখানে এসে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ওই দপ্তর থেকে দেওয়া হয় না। ফলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতের খরচও বাড়ে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই নতুন ডিজিটাল পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিলেই সংশ্লিষ্ট আবেদন বিধায়ক দপ্তরে পৌঁছে যাবে। নথি যাচাইয়ের পর আবেদনকারী অনলাইনেই প্রয়োজনীয় শংসাপত্র বা পরিষেবা পাবেন। বিধায়ক দপ্তরে বারবার আসার প্রয়োজন আর থাকবে না।
মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানান, ২০২১ সাল থেকে তিনি উত্তর বনগাঁর বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনিক কাজের চাপ অনেকটাই বেড়েছে। বিভিন্ন জেলায় সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হওয়ায় আগের মতো নিয়মিত বিধায়ক দপ্তরে সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের পরিষেবায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই পোর্টালের মাধ্যমে আবাসিক শংসাপত্র, আয় শংসাপত্র, সরকারি হাসপাতালে শয্যার জন্য সুপারিশ, বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের আবেদন, উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা, রেল ভাড়ায় ছাড় সংক্রান্ত সুপারিশ-সহ একাধিক পরিষেবার জন্য আবেদন করা যাবে।
নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আধার কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্রের ডিজিটাল যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে জাল নথি ব্যবহার করে কেউ যাতে বেআইনি সুবিধা নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি আবেদন প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পরই অনুমোদন করা হবে।
অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘দল আমাকে রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দিয়েছে। সেই কারণে আগের মতো সব সময় বনগাঁতে থাকা সম্ভব হয় না। কিন্তু মানুষের পরিষেবায় কোনও ঘাটতি হোক, তা চাই না। তাই প্রযুক্তির সাহায্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সব নথি যাচাই করেই শংসাপত্র দেওয়া হবে। জাল নথি ব্যবহার করে কেউ সুবিধা নিতে পারবেন না।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে।
