বিধাননগর — বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড দপ্তরে সরকারি অফিসের ভিতরে বিলাসবহুল ঘর এবং সংলগ্ন একটি শয়নকক্ষের অস্তিত্ব সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, সরকারি দপ্তরকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এ সব দেখাও পাপ।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকান্তনগরে বিজেপির একটি পথসভা শেষে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড দপ্তরে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে প্রবেশ করেই তাঁরা একটি বড় ঘরে একসঙ্গে পাঁচটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দেখতে পান। এরপর সংলগ্ন আরও একটি ঘরে গিয়ে তাঁদের নজরে আসে একটি খাট, আলমারি এবং ড্রেসিং টেবিল।
বিজেপির অভিযোগ, ওই ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে কন্ডোমের একটি প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি আলমারির ভিতরে একাধিক বালিশও রাখা ছিল বলে দাবি করেন দলীয় কর্মীরা। সরকারি ওয়ার্ড দপ্তরে এমন ব্যবস্থা দেখে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, সরকারি সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো হল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, সরকারি দপ্তরের ভিতরে এমন দৃশ্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর কথায়, ‘বয়স হয়েছে, এমন জিনিস দেখাও পাপ। এখন বুঝতে পারছি, এই ঘরকে কেন শয়নকক্ষ বলা হচ্ছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি কাজ শুরু করার আগে গোটা ওয়ার্ড দপ্তর গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করা উচিত।
৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন প্রশাসক। বিজেপির অভিযোগ, ওয়ার্ড দপ্তরের এই অবস্থার জন্য প্রাক্তন কাউন্সিলরের আমলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাই দায়ী। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল বা জয়দেব নস্করের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শুক্রবারের কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগামী পুরসভা নির্বাচনে বিধাননগরের ৪১টি ওয়ার্ডেই বিজেপিকে জয়ী করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিধাননগরের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সরকারি দপ্তরের পরিকাঠামো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতারা। এখন প্রশাসন এই অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
