একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন সায়নী ঘোষ। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সর্বত্রই দলনেত্রীর পক্ষে সরব অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এবার তাঁর নাম উঠে এসেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায়।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দলের একাংশের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন সায়নী। ইতিমধ্যেই একাধিক সাংসদের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি স্পিকারের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই তালিকায় ইউসুফ পাঠান, মালা রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের পাশাপাশি সায়নী ঘোষের নামও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সায়নীর এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তৃণমূলের যুব সংগঠনের নেতৃত্বে থাকার সময় তিনি দলের অন্যতম আক্রমণাত্মক মুখ ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও একাধিকবার তুলে ধরেছিলেন তিনি। সেই নেত্রীর দলেই এখন ভাঙনের জল্পনার মধ্যে সায়নীর নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা আরও তীব্র হয়েছে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ তাঁদের পাশে রয়েছেন এবং সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দলীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছিল, এই ঘটনাপ্রবাহ সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিচ্ছে।
