দিল্লি — ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টানা ৪,৩৯৯ দিন দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ভেঙে দিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ-বিদেশ থেকে শুভেচ্ছার বন্যা বইতে শুরু করেছে।
২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে টানা জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন নরেন্দ্র মোদী। সেই ধারাবাহিকতার জেরেই তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন নজির গড়লেন।
বুধবার ৪,৩৯৯ দিনের মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করেন। স্বাধীনতার পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল বাদ দিয়ে ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে নেহরুর মেয়াদকাল গণনা করা হয়।
এই উপলক্ষে দেশের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত উন্নয়ন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য দেশের পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতীক।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশ একাধিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে। অন্ত্যোদয়ের আদর্শ এবং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস’-এর দর্শন দেশের উন্নয়নকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, সি আর পাটিল, অর্জুন রাম মেঘওয়াল-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, এই সাফল্য দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রধানমন্ত্রীকে ‘অবিরাম কর্মযোগী’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, এই মাইলফলক প্রধানমন্ত্রী মোদীর ত্যাগ, দূরদর্শিতা এবং নিষ্ঠার প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে গত এক দশকে দেশে একাধিক বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। নতুন সংসদ ভবন, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প, কর্তব্য পথ, স্ট্যাচু অব ইউনিটি, বন্দে ভারত ট্রেন, নমো ভারত দ্রুতগামী পরিবহণ ব্যবস্থা, কাশ্মীর রেল সংযোগ, আইএনএস বিক্রান্ত, নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এদিকে এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন করতে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এনডিএ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান-সহ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৈঠকে গত ১২ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পর্যালোচনার পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু ভারত নয়, বিদেশ থেকেও এসেছে শুভেচ্ছাবার্তা। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মার্কিন সিনেটর জন কর্নিন, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং কূটনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টানা তিনবার নির্বাচনে জয় এবং ৪,৩৯৯ দিনের নিরবচ্ছিন্ন প্রধানমন্ত্রিত্ব নরেন্দ্র মোদীকে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর এই রেকর্ড আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
