ডায়মন্ড হারবার — বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-কে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালত। মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালতে পেশ করে ফলতা থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হলেও বিচারক ৫ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাংলা-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির খান। এরপর তাঁকে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে তোলা হয়। আদালত চত্বরে এদিন ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে অভিযুক্তকে আদালতে আনা হয়।
জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবার ফৌজদারি আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের কোনও আইনজীবী জাহাঙ্গির খানের পক্ষে সওয়াল করতে রাজি হননি। পরে অভিযুক্তের আবেদনের ভিত্তিতে সরকারি লিগ্যাল এইডের এক আইনজীবী তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন।
এদিন অভিযুক্তের জামিনের আবেদনও করা হয়েছিল। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা আদালতে জানান, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সেই কারণেই ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল।
আদালত সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অভিযুক্তকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই সময়ের মধ্যে একাধিক মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, ‘বিচারক সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে লুটপাট, ভয় দেখানো, মারধর, সন্ত্রাস সৃষ্টি, তোলাবাজি এবং খুনের মতো গুরুতর অপরাধ। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তকারী সংস্থার অনুমান, পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই এই মামলার অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
