সংবাদ কলকাতা: কলকাতা পুরসভার পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার বর্তমান কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন নির্বাচিত কাউন্সিলররা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক ছয় মাসের জন্য তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারার অধীনে কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মেয়র, চেয়ারপার্সন, মেয়র পারিষদের সদস্য এবং আইনের অধীনে গঠিত সমস্ত কমিটির সদস্যদের পদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে গেল।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর পুরসভার সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে নিযুক্ত প্রশাসক বা প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
গত সপ্তাহেই কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই ঘটনার পর থেকেই পুরসভার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
এদিকে বোর্ড ভাঙা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সন মালা রায়ের মধ্যে আইনি মতপার্থক্যও সামনে আসে। রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, কলকাতা পুর আইনের ১১৭(১) ধারা অনুযায়ী বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে মালা রায়ের বক্তব্য ছিল, একই আইনের ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী নতুন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ডেপুটি মেয়র প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে পারেন। ফলে বোর্ড ভাঙার প্রয়োজন নেই বলেই তিনি মত প্রকাশ করেছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার তাদের অবস্থানেই অনড় থাকে এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন প্রশাসক নিয়োগের ফলে কলকাতা পুরসভার দৈনন্দিন পরিষেবা, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং নাগরিক পরিষেবাগুলির কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলবে। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথও এখন আরও স্পষ্ট হল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত কলকাতার নগর প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করল। আগামী কয়েক মাসে প্রশাসকের নেতৃত্বে পুরসভার কাজকর্ম কীভাবে এগোয় এবং নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
