হুগলি, ৭ জুন, ২০২৬ — বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। সাংগঠনিক স্তরে মতভেদ এবং নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার আবহে এ বার দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন বলাগড়ের যুব নেত্রী তথা হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য রুনা খাতুন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার রুনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
রুনার কথায়, ‘তৃণমূলের সঙ্গে আমার সমস্ত সম্পর্ক শেষ। আগামী দিনে কী করব, তা এখনও ঠিক করিনি। পথই পথ দেখাবে।’
দীর্ঘদিন ধরে বলাগড়ের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ রুনা খাতুন। টানা তিন বার হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মসূচি এবং জনসভায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে জেলা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে দিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এমনও জল্পনা ছিল যে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।
ভোটের কয়েক মাস আগে বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন রুনা। সেই বিতর্ক জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বিষয়টি সামাল দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই ঘটনার পর থেকেই রুনার সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। নির্বাচনের পর দলীয় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে রুনার স্বামী অরিজিৎ দাস এখনও বলাগড়ের সিজা কামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদে রয়েছেন এবং সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
রুনা খাতুনের দলত্যাগের ঘটনায় হুগলি জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
