মুম্বাই — বলিউডের প্রযোজক এবং কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের (সিবিএফসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাহলাজ নিহালানি আর নেই। বৃহস্পতিবার ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। জানা গিয়েছে, যকৃতজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।
তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে সক্রিয় ছিলেন পাহলাজ নিহালানি। প্রযোজক হিসেবে যেমন পরিচিতি পেয়েছিলেন, তেমনই সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকাল নানা বিতর্কের কারণে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছিল।
১৯৫০ সালের ১০ জানুয়ারি এক সিন্ধি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পাহলাজ। তাঁর দাদা গোবিন্দ নিহালানি ভারতীয় সমান্তরাল ধারার সিনেমার অন্যতম বিশিষ্ট পরিচালক ছিলেন। সেই পারিবারিক সূত্র ধরেই চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন পাহলাজ।
১৯৮২ সালে ‘হাথকড়ি’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ‘আঁধি-তুফান’, ‘ইলজাম’, ‘আগ হি আগ’, ‘গুনাহোঁ কা ফয়সলা’, ‘পাপ কি দুনিয়া’, ‘মিট্টি অউর সোনা’, ‘শোলা অউর শবনম’ এবং ‘আঁখেঁ’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় হিন্দি ছবি প্রযোজনা করেন। বিশেষ করে ‘ইলজাম’ ছবির মাধ্যমে গোবিন্দর এবং ‘আগ হি আগ’-এর মাধ্যমে চাঙ্কি পাণ্ডের বলিউড অভিষেক হয়েছিল।
গোবিন্দর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাদার এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক বলিউডে বিশেষভাবে আলোচিত ছিল। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার অন্যতম সফল প্রযোজক হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পাহলাজ। সেই সময় থেকেই তাঁর নামকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। চলচ্চিত্রে সংলাপ, দৃশ্য এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি বারবার সমালোচনার মুখে পড়েন।
‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে ৮৯টি কাটছাঁটের সুপারিশ করে তিনি জাতীয় স্তরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরে আদালতের নির্দেশে মাত্র একটি কাটছাঁট নিয়ে ছবিটি মুক্তি পায়। ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরখা’, ‘আলিগড়’, ‘জব হ্যারি মেট সেজল’-সহ একাধিক ছবির ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করেছিল।
নিজেকে ‘সংস্কারী’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন পাহলাজ। ২০১৭ সালে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রসূন যোশীকে।
চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পরও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে গোবিন্দকে নিয়ে ‘রঙ্গিলা রাজা’ ছবির প্রযোজনা করেন। পাশাপাশি ওটিটি মঞ্চের জন্যও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির পক্ষে বারবার সরব হয়েছিলেন।
২০২১ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রায় এক মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পাহলাজ। তারপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়।
তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ এক বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে হারাল। প্রযোজক, সংগঠক এবং সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।
