তারকেশ্বর, ৩ জুন ২০২৬: তারকেশ্বরের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি আসন্ন শ্রাবণী মেলাকে সামনে রেখে পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার তারকেশ্বর সফরে গিয়ে বাবা তারকনাথের মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু। পরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মন্দির ও তার আশপাশের উন্নয়নকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব আরও কার্যকর করতে অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) অনুজ প্রতাপ সিংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। শ্রাবণী মেলার সময় বিপুল সংখ্যক ভক্তের আগমনকে মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যাতায়াত, পানীয় জল ও অন্যান্য পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ গঠন করেছিল। সেই পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিমকে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় রাজনৈতিক মহলে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন।
মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন নিয়েও মুখ খুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, তারকেশ্বরের আধ্যাত্মিক পরিবেশের সঙ্গে কিছু রঙের ব্যবহার ও সাজসজ্জা মানানসই নয়। বিশেষ করে দুধপুকুর সংলগ্ন এলাকায় নতুনভাবে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিনের বৈঠকে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ কর্তাদের পাশাপাশি হুগলির একাধিক বিজেপি বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। জেলা উন্নয়ন, পর্যটন ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে তারকেশ্বরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে। তাঁর দাবি, বাংলার ইতিহাসে এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাই ভবিষ্যতে তারকেশ্বরকে আরও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
