কৃষ্ণনগর — মহিলাদের জন্য চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে পুরুষদের নাম উঠে আসার অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদিয়ায়। প্রশাসনিক তদন্তে কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে অন্তত ১৭৩ জন পুরুষের নাম সামনে এসেছে, যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করতে গিয়েই এই তথ্য সামনে আসে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ওই ব্যক্তিরা প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁদের নাম উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের বিডিও সংশ্লিষ্ট ১৭৩ জনের নাম তালিকা থেকে বাতিল করার জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি নথিতে জালিয়াতির অভিযোগে ভোলা শীল নামে এক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মীর পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, শুধু মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এলাকাতেই কয়েক হাজার এমন ঘটনার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালককে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজন হলে আর্থিক দুর্নীতির মামলাও দায়ের করা হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনকারীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের কোনও সমস্যা হবে না। তবে সরকারি সাহায্য সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছনো নিশ্চিত করতে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের তদন্ত চলছে। আগামী দিনে আরও ভুয়ো উপভোক্তার নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
previous post
