May 17, 2026
রাজ্য

জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশজুড়ে বিজেপির ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ অভিযান

দিল্লি — পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আবহে দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই আহ্বানকে সামনে রেখে রবিবার দেশজুড়ে ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ নামে বিশেষ জনসচেতনতা অভিযান শুরু করল বিজেপি।

দলের তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় স্বার্থে শক্তি সঞ্চয়, সংযমী জীবনযাপন এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতনতা গড়ে তোলা।

বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা অনুসরণ করে দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের জীবনযাত্রায়ও একাধিক পরিবর্তন আনছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা জ্বালানি সাশ্রয়ে মেট্রো, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং গণপরিবহণ ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই কমানো হয়েছে গাড়ির বহরের সংখ্যাও।

দলের তরফে সাধারণ মানুষকেও সপ্তাহে অন্তত এক দিন ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার এড়িয়ে কারপুলিং, মেট্রো এবং গণপরিবহণ ব্যবহারের আবেদন জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়ানো, সোনার কেনাকাটা কমানো এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ‘স্বদেশি’ পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচিতে।

বিজেপি জানিয়েছে, দলীয় দপ্তরগুলিতে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অনলাইন বৈঠক এবং সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্যাভ্যাস এবং কৃষিক্ষেত্রেও সংযমের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ভোজ্য তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেক কমিয়ে প্রাকৃতিক এবং জৈব চাষে উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দলের একাংশের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের সময়ে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি এবং শক্তি নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Related posts

Leave a Comment