May 11, 2026
রাজ্য

আগের সব প্রকল্প চালু থাকছে, তবে সুবিধা পাবেন শুধু যোগ্য নাগরিকরাই

কলকাতা— পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সামাজিক প্রকল্প (Social Scheme) নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন, পূর্বতন সরকারের চালু করা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের কাছেই পৌঁছবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আগে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চালু থাকবে। সেটা ৩০ বছর আগের হোক বা ১০ বছর আগের, কোনও প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না।’ তাঁর কথায়, মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, প্রকল্পগুলির পোর্টাল (Portal) নতুন করে আপডেট করা হবে। মোদী সরকারের ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (Direct Benefit Transfer) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এর ফলে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলে দাবি সরকারের।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘অ-ভারতীয় বা মৃত কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন সরকার।

বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) অভিযোগ করেছিল, বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘যুবসাথী’, ‘কন্যাশ্রী’-র মতো প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও বিজেপি শুরু থেকেই সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নির্বাচনী সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আরও বাড়ানো হবে।

নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘অন্নপূর্ণার ভান্ডার’ প্রকল্পে প্রতি মাসে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ২১ হাজার টাকা সহায়তা এবং পুষ্টি সামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া অবিবাহিত ছাত্রীরা স্নাতক স্তরে ভর্তির আগে এককালীন ৫০ হাজার টাকা পাবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক প্রকল্পকে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে।

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM Jan Arogya Yojana), প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা, পিএম শ্রী (PM Shri), বিশ্বকর্মা (Vishwakarma), বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প (Central Scheme) দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকদের দ্রুত আবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Related posts

Leave a Comment