পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর মানুষের রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানালেন, জয় বা পরাজয়ের পেছনে কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সাধারণ মানুষই।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মানুষই শেষ কথা বলে। কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও তারা জিতত। তখন কি নির্বাচন কমিশন জিতিয়ে দিত? জয়-পরাজয় মানুষের হাতে।’
এই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল সাফল্য পেয়ে রাজ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন।
দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, ‘যেমন ব্যবহার অন্যদের সঙ্গে করা হয়, তেমনই প্রতিফল ফিরে আসে। বাংলায় এখন সেটাই ঘটছে।’ তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তৃণমূল সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘মানুষ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও কাজের ফল দেখাতে পারেননি। দুর্নীতি ও হিংসার অভিযোগ ছিল।’
ভোটের নিরিখে বিজেপি পেয়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট, তৃণমূল কংগ্রেস ৪১ শতাংশ। বামফ্রন্ট ৪ শতাংশ, কংগ্রেস ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং-সহ একাধিক জেলায় তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও দলের ফল খারাপ হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় ধাক্কা।
সব মিলিয়ে, দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে স্পষ্ট—এই জয়কে তিনি মানুষের রায় হিসেবেই দেখছেন, যা বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
previous post
