দিল্লি, ১ মে — দেশের সামুদ্রিক শক্তি ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে ঘিরে বড় পরিকল্পনা এগিয়ে চলেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, দ্বীপটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সমুদ্রকেন্দ্রে পরিণত করা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব-পশ্চিম আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের কাছাকাছি অবস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি বন্দরের উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়বে।
এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক বড় পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক কনটেনার স্থানান্তর বন্দর, নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি পরিকল্পিত শহর।
বর্তমানে দেশের অনেক বন্দরে গভীর জলের সুবিধা না থাকায় বড় জাহাজ সরাসরি ঢুকতে পারে না। ফলে পণ্য পরিবহণের জন্য বিদেশি বন্দর ব্যবহার করতে হয়, যার ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। এই প্রকল্প সেই সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলি ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তুলছে। সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের অংশ হিসেবে গ্যালাথিয়া উপসাগরে একটি আধুনিক বন্দর তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের খুব কাছেই অবস্থিত। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বনাঞ্চলের খুব সামান্য অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার পরিবর্তে নতুন বনসৃজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। তাদের কোনও রকম উচ্ছেদ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে প্রশাসন। পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। নতুন বিমানবন্দর চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, এই প্রকল্প দেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং পর্যটন—তিন ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
