March 12, 2026
খেলা

আইপিএল ২০২৬-এ বড় পরীক্ষা প্যাটিদারের, বললেন অনিল কুম্বলে

দিল্লি — আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম পর্বের সূচি প্রকাশের পরই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল শিরোপা জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দলটি। তবে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক অনিল কুম্বলের মতে, অধিনায়ক রজত প্যাটিদারের সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

আইপিএল ২০২৬-এ বেঙ্গালুরুর অভিযান শুরু হবে ২৮ মার্চ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। এখন প্রশ্ন, তারা কি শিরোপা রক্ষা করতে পারবে? আইপিএলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত শুধু চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সই টানা ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে।

২০২৫ মরসুমের আগে ফাফ ডু প্লেসিসের জায়গায় অধিনায়কত্ব পান রজত প্যাটিদার। অনেকেই ভেবেছিলেন বিরাট কোহলিই আবার নেতৃত্বে ফিরবেন। কিন্তু দল পরিচালনা কমিটি প্যাটিদারের উপর ভরসা রাখে এবং তিনি সেই আস্থা ধরে রেখে দলকে প্রথম আইপিএল শিরোপা এনে দেন।

অনিল কুম্বলে বলেন, প্যাটিদার প্রথম মরসুমেই অধিনায়ক হিসেবে ভালো কাজ করেছেন। বিশেষ করে বোলিং বিভাগ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্তগুলি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ এবং স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকা দলকে এগিয়ে দেয়।

তবে কুম্বলের মতে, এবার চাপ অনেক বেশি থাকবে। কারণ শিরোপা জয়ের পর প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তাঁর মতে, প্যাটিদার অত্যন্ত শান্ত ও স্থির মেজাজের ক্রিকেটার এবং চাপের মধ্যেও ধৈর্য ধরে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা তাঁর বড় শক্তি।

দলের সম্ভাব্য একাদশ নিয়েও মত দেন কুম্বলে। তাঁর মতে, অলরাউন্ডার বেঙ্কটেশ আইয়ার সম্ভবত মরসুমের শুরুতে প্রথম একাদশে সুযোগ নাও পেতে পারেন। কারণ গতবার যে দল ট্রফি জিতেছিল, সেই মূল একাদশ বজায় রাখার সম্ভাবনাই বেশি।

দেবদত্ত পাড়িক্কলকে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যেতে পারে। চোটের কারণে গত মরসুমের শেষ দিকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি, তবে বর্তমানে ব্যাট হাতে ভালো ছন্দে রয়েছেন।

বোলিংয়ে সুয়াশ শর্মাকে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইমপ্যাক্ট’ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। গত মরসুমেও এই কৌশলেই দলকে সাজানো হয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেন কুম্বলে।

বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও বেঙ্গালুরুর সমীকরণ যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, রোমারিও শেফার্ড এবং টিম ডেভিড একসঙ্গে খেললে দলের ব্যাটিং লাইন-আপ আরও দীর্ঘ হবে এবং শেষের দিকে ম্যাচ শেষ করার ক্ষমতাও বাড়বে।

ফিল সল্টেরও প্রথম একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন কুম্বলে। জশ হেজলউড যদি পুরোপুরি সুস্থ থাকেন, তিনিও দলে জায়গা পাবেন।

তবে কুম্বলে মনে করছেন, এই মরসুমে বেঙ্গালুরুর জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে বোলিং বিভাগের ফিটনেস। বিশেষ করে ভূবনেশ্বর কুমার এবং জশ হেজলউড কতটা সুস্থ অবস্থায় খেলতে পারবেন, সেটাই দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাঁর মতে, ব্যাটিং নিয়ে তেমন উদ্বেগ নেই। কিন্তু বোলিং বিভাগ কতটা শক্তিশালী অবস্থায় মাঠে নামতে পারে, সেটাই আইপিএল ২০২৬-এ বেঙ্গালুরুর ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Related posts

Leave a Comment