March 12, 2026
টিভি-ও-সিনেমা

দীপিকা প্রসঙ্গে কুণাল কেম্মুর মন্তব্যে বিতর্ক, সোশ্যাল মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা

মুম্বাই — বলিউডে কাজের সময়সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে অভিনেতা কুণাল কেম্মুর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টার কাজের সময়ের দাবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেম্মুর মন্তব্য সোশ্যাল মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি পডকাস্ট আলোচনায়। সেখানে স্ত্রী তথা অভিনেত্রী সোহা আলি খানের সঙ্গে কথোপকথনের সময় বলিউডে কাজের সংস্কৃতি এবং দীর্ঘ শুটিংয়ের সময় নিয়ে নিজের মতামত জানান কুণাল কেম্মু। সেই আলোচনার একটি অংশ প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি পুরনো প্রশ্ন—অভিনেতা বা অভিনেত্রীরা বাবা–মা হওয়ার পর কি চলচ্চিত্র শিল্পে কাজের সময়সীমা আরও স্বাস্থ্যকর ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত?

গত বছর দীপিকা পাড়ুকোন প্রকাশ্যে বলেছিলেন, চলচ্চিত্র জগতে প্রায়ই ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়, যা অনেক সময় অত্যন্ত ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবার রয়েছে বা সন্তান রয়েছে, তাঁদের জন্য এমন সময়সূচি দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা কঠিন। তাই সাধারণ কর্মক্ষেত্রের মতো আট ঘণ্টার কাজের সময় চালু করার প্রস্তাব দেন তিনি।

শোনা যায়, মা হওয়ার পর কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন থেকেই এই দাবি তুলেছিলেন দীপিকা। তাঁর সমর্থকেরা এটিকে বলিউডে কাজের সংস্কৃতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি বলে মনে করেন। তবে সমালোচকদের একাংশের মতে, এমন ব্যবস্থা করলে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময়সূচি ও বাজেটে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এই প্রসঙ্গেই পডকাস্টে নিজের মতামত দেন কুণাল কেম্মু। তিনি বলেন, কেউ যদি কম সময় কাজ করতে চান কিন্তু একই পারিশ্রমিক প্রত্যাশা করেন, তা প্রযোজকদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ একটি ছবির শুটিং সাধারণত নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়।

কেম্মুর মতে, যদি কোনও অভিনেতা নিজের কাজের সময় ও আর্থিক শর্তের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চান, তাহলে তাঁকে প্রযোজক হয়ে নিজেই ছবিতে বিনিয়োগ করার কথা ভাবা উচিত। এতে কাজের সময়সূচি নির্ধারণের স্বাধীনতাও বেশি থাকবে এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকিও নিজেই বোঝা যাবে।

তবে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি বাড়ে তাঁর আরেকটি মন্তব্যকে ঘিরে। মাতৃত্ব ও পেশাগত পরিকল্পনার প্রসঙ্গে কেম্মু বলেন, গর্ভধারণের সময় প্রায় নয় মাস থাকে, তাই পেশাগত পরিকল্পনাও সেই অনুযায়ী করা যেতে পারে।

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মাধ্যমে অনেকেই কেম্মুর সমালোচনা করেন। অনেকের মতে, এই মন্তব্য নারীদের পেশাগত সিদ্ধান্তকে হালকা করে দেখার ইঙ্গিত দেয়।

যদিও পরে কেম্মু স্পষ্ট করেন, তিনি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কথা বলেননি এবং বিষয়টি নারী–পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য বলে তাঁর মত। তাঁর মতে, এটি মূলত মানসিকতার বিষয়, লিঙ্গভিত্তিক নয়।

তবুও তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক থামেনি। বলিউডে কাজের সময়সীমা, ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত দায়বদ্ধতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment