March 12, 2026
দেশ

নেতাজির অস্থি ফেরানোর আর্জি খারিজ, কন্যাকেই আদালতে আসতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

দিল্লি —নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অস্থি ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি আবেদন শুনতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনটি করেছিলেন নেতাজির ভাইপো নাতি অশীষ রায়। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে মামলা করতে হলে নেতাজির একমাত্র কন্যা অনিতা বসু ফাফকেই সরাসরি আদালতে আবেদন করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। অশীষ রায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতকে জানান, নেতাজির কন্যা অনিতা বসু ফাফ ভার্চুয়ালি উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি এই আবেদনের সমর্থনও করছেন।

কিন্তু বেঞ্চ জানায়, পর্দার আড়াল থেকে সমর্থন জানানো যথেষ্ট নয়। যেহেতু অনিতা বসু ফাফই নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী, তাই তাঁকেই সরাসরি আবেদনকারী হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সি অনিতা বসু ফাফ অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন।

শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, এর আগে একই ধরনের একাধিক আবেদন আদালতে জমা পড়েছিল এবং সেগুলি খারিজ করা হয়েছে। শেষবার ২০২৪ সালেও এমন একটি আবেদন করা হয়েছিল, সেটিও আদালত গ্রহণ করেনি।

তবে অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন, আগের আবেদনের সঙ্গে এই মামলার বিষয় আলাদা। আগে যেখানে নেতাজি এখনও জীবিত কিনা বা তাঁর নিখোঁজ হওয়ার তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল, সেখানে বর্তমান আবেদনে শুধু জাপানে সংরক্ষিত নেতাজির অস্থি ভারতে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানো হয়েছে।

এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, প্রথমেই জানতে হবে সেই অস্থি কোথায় রয়েছে। সিংভি জানান, জাপানের টোকিও শহরের রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির অস্থি সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেখানে তাঁর স্মৃতিসৌধও রয়েছে। বহু ভারতীয় নেতা সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

নেতাজিকে দেশের অন্যতম মহান জাতীয় বীর বলে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর স্মৃতির প্রতি আদালতের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে এই আবেদনে বসু পরিবারের কতজন সদস্য সমর্থন করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বেঞ্চ।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, উত্তরাধিকারী নিজে আবেদনকারী না হলে আদালত বিষয়টি শুনতে পারে না। তাঁর মতে, উত্তরাধিকারীকেই সামনে এসে আইনি লড়াই চালাতে হবে।

এরপর সিংভি আদালতের অনুমতি চান আবেদনটি প্রত্যাহার করার জন্য এবং জানান যে নেতাজির কন্যা নিজেই পরে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করে দেয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও নেতাজিকে ঘিরে একাধিক জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল। ২০১৪ সালে নেতাজির নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে দায়ের হওয়া একটি মামলা আদালত খারিজ করে দেয় এবং আবেদনকারীকে জরিমানাও করা হয়। পরে ২০২২ সালে নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার দাবিতে করা আরেকটি আবেদনও সুপ্রিম কোর্ট নাকচ করে দেয়।

Related posts

Leave a Comment