রায়পুর, ছত্তিশগড় — ছত্তিশগড় বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে তুমুল উত্তেজনা ও হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সড়ক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য দপ্তরের বকেয়া অর্থপ্রদান এবং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি নিয়ে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় একসময় কক্ষের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হন অধ্যক্ষ।
অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপমুখ্যমন্ত্রী অরুণ সাও, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্যাম বিহারী জয়সওয়াল, বনমন্ত্রী কেদার কাশ্যপ এবং দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী গুরু খুশওয়ন্ত সাহেব। এছাড়া উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মার পক্ষ থেকেও কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
বিজেপি বিধায়ক কিরণ সিং দেও মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় হওয়া কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সমীক্ষা বা দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই কাজ শুরু হয়েছে। জবাবে বনমন্ত্রী কেদার কাশ্যপ জানান, কিছু সংবেদনশীল এলাকায় জেলা খনিজ ফাউন্ডেশন তহবিল ব্যবহার করে কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এদিকে আকলতারা অঞ্চলে বারবার সড়ক দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিধায়ক রাঘবেন্দ্র কুমার সিং। তিনি সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। মন্ত্রী কাশ্যপ আশ্বাস দেন, বিষয়টি নজরে রাখা হবে এবং দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজকর্ম নিয়েও বিধানসভায় প্রশ্ন ওঠে। কোন্ডাগাঁওয়ের বিধায়ক লতা উসেন্দি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ এক মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নয় মাস পর্যন্ত বকেয়া থেকে যাচ্ছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কাওয়াসি লাখমাও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্যাম বিহারী জয়সওয়াল জানান, যথাযথ যাচাইয়ের পরই অর্থ ছাড় করা হবে এবং ভুল তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিবেশনের উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন বিরোধীরা রান্নার গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন এবং সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ তুলে মুলতবি প্রস্তাব আনেন। বিরোধী দলনেতা চরণদাস মহন্ত দাবি করেন, রাজ্যের বহু এলাকায় মানুষ গ্যাস সিলিন্ডার পেতে সমস্যায় পড়ছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্যাস সরবরাহে কোনও সংকট নেই।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলও বিতর্কে যোগ দিয়ে অভিযোগ করেন, গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি বেড়েছে এবং বহু জেলায় সাধারণ মানুষ রিফিল পেতে সমস্যায় পড়ছেন। এর জেরে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সভা পাঁচ মিনিটের জন্য স্থগিত করতে হয়।
অন্যদিকে ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীপক বাইজ ঘোষণা করেন, আগামী ১৭ মার্চ বিধানসভা ঘেরাও করে বড় আন্দোলন সংগঠিত করবে দল। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বেআইনি আফিম চাষ, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবাদই হবে এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
দীপক বাইজ অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বেআইনি মাদক চাষের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ শ্রমিকরা কাজের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন এবং সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কংগ্রেস তাদের আন্দোলন আরও তীব্র করবে। দলের কর্মীদেরও ১৭ মার্চের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে বাজেট অধিবেশন শুধু নিয়মিত আইন প্রণয়নের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতও ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। সুশাসন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা প্রশ্ন আগামী দিনে ছত্তিশগড়ের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
