29 C
Kolkata
March 11, 2026
রাজ্য

বিধানসভা ভোটে জেলা প্রশাসনের ক্ষমতা কমাল কমিশন

প্রতীকী চিত্র

সিএপিএফ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক

সংবাদ কলকাতা — পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এবার আর জেলা প্রশাসন নয়, নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকরাই নির্ধারণ করবেন কোন এলাকায় কখন সিএপিএফ বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

এতদিন পর্যন্ত নির্বাচনের আগে, চলাকালীন বা পরে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকার সময়ে জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের হাতে ছিল সিএপিএফ বাহিনীর চলাচল ও মোতায়েন নির্ধারণের ক্ষমতা। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থায় বদল আনল নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের দুই দিনের পর্যালোচনা সফরের সময় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করার পরেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্রের খবর, বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক রাজনৈতিক দল অভিযোগ তুলেছিল যে আগের নির্বাচনে সিএপিএফ বাহিনীর সঠিক ব্যবহার হয়নি। কোথাও বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রাখা হয়েছিল, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় এলাকায় না পাঠিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার বাহিনীর চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জেলা ভিত্তিক সমন্বিত দল গঠন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। এই দল বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কোথায় কত বাহিনী প্রয়োজন তা নির্ধারণ করবে। সেই বিষয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে যে রাজ্যের সব জেলায় থাকা সিএপিএফ বাহিনী দিয়ে রুট মার্চ এবং এলাকা দখল সংক্রান্ত মহড়া দ্রুত শেষ করতে হবে। আগামী ১৪ মার্চ রাত আটটার মধ্যে প্রথম পর্যায়ের এই কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি সিএপিএফ পশ্চিমবঙ্গে এসে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশন জেলাভিত্তিকভাবে এই বাহিনী বণ্টনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনী হিংসার বিষয়ে কমিশন এবার কোনওরকম শিথিলতা দেখাবে না। তাঁর কথায়, ‘ভোটের আগে, ভোটের দিন কিংবা ভোটের পরে— কোনও সময়েই নির্বাচনী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বাহিনী মোতায়েনের দায়িত্ব সরাসরি কমিশনের পর্যবেক্ষকদের হাতে যাওয়ায় ভোট প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আরও সহজ হতে পারে।

Related posts

Leave a Comment