28 C
Kolkata
March 6, 2026
বিদেশ

ইরানে হামলার এক সপ্তাহ পরও উত্তেজনা চরমে, তেহরানকে আত্মসমর্পণের বার্তা ওয়াশিংটনের

ওয়াশিংটন — ইরানের ভিতরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। যুদ্ধের ভাষা দিন দিন আরও কঠোর হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ধারাবাহিক হামলার ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তেহরানের সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের কৌশলগত সামরিক পরিকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। তাদের দাবি, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং অস্ত্রভাণ্ডারে আঘাত হানা হয়েছে। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

তবে তেহরানের তরফে এই দাবি মানতে নারাজ ইরানি প্রশাসন। তাদের বক্তব্য, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি অটুট রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং নতুন প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ক্রমেই তার ছায়া পড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। সংঘাতের জেরে এই পথ ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

ভারতও পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে। দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালীতে যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবহণ ব্যাহত হয়, তা হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলের মতে, দ্রুত আলোচনার পথে না ফিরলে এই উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

Related posts

Leave a Comment