রিয়াধ, ৪ মার্চ: সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Saudi Aramco-র বৃহত্তম তৈলশোধনাগার লক্ষ্য করে ফের হামলার চেষ্টা হল। পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা শহরে অবস্থিত এই শোধনাগারটি দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি রিফাইনারি হিসেবে পরিচিত।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে। তবে শোধনাগারের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগেও গত সোমবার একই শোধনাগারে দু’টি ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষের। তাদের অভিযোগ, ড্রোনগুলি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল। যদিও হামলার আগেই সেগুলি গুলি করে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
টানা উত্তেজনা পশ্চিম এশিয়ায়
গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার আবহে সৌদি আরব বারবার হামলার মুখে পড়ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। যদিও এই দাবি সরকারি ভাবে স্বীকৃত নয়।
গত শনিবার আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei-র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তেহরানের তরফে পাল্টা আঘাতের ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র
রাস তানুরা রিফাইনারি পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধন করা হয় এখানে। সৌদির তেল রফতানির ক্ষেত্রে এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
মঙ্গলবার রাজধানী রিয়াধেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হওয়ায় সাময়িকভাবে দূতাবাস বন্ধ রাখা হয়।
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এই হামলাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
