নয়াদিল্লি, ৩ মার্চ: ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলা পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার লক্ষ্য শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা ধ্বংস নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত পরিবর্তন আনা।
যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন এবং ইউরোপ থেকে একাধিক যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে সরিয়ে এনে প্রস্তুতি নিয়েছিল। আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও তা ছিল মূলত সময়ক্ষেপণ—এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের একাংশের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বহুদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল তেহরানে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করা।
সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হয়েছেন। যদিও তিনি সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উত্তরসূরি নির্ধারণে বহুস্তরীয় কাঠামো গড়ে রেখেছিলেন বলে জানা যায়। ফলে কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই শাসন পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক প্রভাব
ইরান ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ তাদের ভূখণ্ড মার্কিন সেনাদের ব্যবহারের অনুমতি দিলেও, এই হামলার জেরে অঞ্চলটি নতুন করে বিভক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান চাইলে Strait of Hormuz অবরুদ্ধ করতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা দেবে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।
ভারতের জন্য তাৎপর্য
ভারতসহ বহু দেশ পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে আমদানি ব্যয় বাড়বে।
চিনও ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করে। ফলে এই সংঘাতকে কেউ কেউ বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখছেন।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
লিবিয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে শাসন পরিবর্তনের আশা করলেও, ইরানের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। শাসন টিকে গেলে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে, আর পরিবর্তন ঘটলেও তা স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ইরানের প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং তেলের বাজারে অস্থিরতার মাত্রার উপর।
