February 24, 2026
দেশ

IDFC ফার্স্ট ব্যাংক কেলেঙ্কারি: কীভাবে সামনে এল ৫৯০ কোটি টাকার গরমিল

IDFC First Bank-এর চণ্ডীগড় শাখাকে ঘিরে ৫৯০ কোটি টাকার আর্থিক গরমিল সামনে আসতেই তোলপাড় পড়েছে ব্যাংকিং মহলে। তদন্তকারীরা ৩৯১টি সন্দেহজনক লেনদেন ও ১৭০-র বেশি অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছেন। ব্যাংক ইতিমধ্যে কয়েকজন কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে এবং ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ দিয়েছে।
কীভাবে শুরু হল বিতর্ক
ঘটনার সূত্রপাত একটি সাধারণ অনুরোধ থেকে। হরিয়ানার এক সরকারি দফতর তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আবেদন জানায়। সেই সময় দফতরের দেওয়া ব্যালান্স এবং ব্যাংকের সিস্টেমে দেখানো অঙ্কের মধ্যে অমিল ধরা পড়ে।
এরপর আরও কয়েকটি সরকারি দফতর একই ধরনের গরমিলের অভিযোগ জানায়। সব ক্ষেত্রেই চণ্ডীগড়ের একই শাখা জড়িত থাকায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়|
তদন্তে কী উঠে এসেছেতদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে যা পেয়েছেন:

  • হরিয়ানা সরকারের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অনিয়ম
  • একই শাখায় লেনদেনের ঘনত্ব
  • কয়েকজন কর্মীর অনুমতিহীন কার্যকলাপ
  • মোট ৫৯০ কোটি টাকা ‘রেকনসিলিয়েশন’-এর আওতায়

এছাড়া ৩৯১টি সন্দেহজনক লেনদেন এবং ১৭০-র বেশি অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।ব্যাংক জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে অবহিত করেছে। একটি বহিরাগত সংস্থাকে ফরেনসিক অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বোর্ড ও অডিট কমিটির বৈঠকও ডাকা হয়েছে|
বাজারে প্রভাবঘটনার জেরে শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা খায় আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের শেয়ার। একদিনেই প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয় বলে বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ মূলত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে।


হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী Nayab Singh Saini বিধানসভায় জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো অর্থ সরকারি অ্যাকাউন্টে ফেরত এসেছে।
তিনি বলেন, প্রায় ৫৫৬ কোটি টাকা ব্যাংক জমা দিয়েছে এবং প্রায় ২২ কোটি টাকা সুদ-সহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দায় নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সুপারিশ দেবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment